আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী ডারিও আমোদেইয়ের স্ত্রী ক্যামি ক্লার্ক একসময় নিজের পর্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগের জন্য জেফরি এপস্টিনের কাছে যোগাযোগ করেছিলেন বলে প্রকাশ পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ থেকে অবমুক্ত এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিতে এসব ই-মেইল রয়েছে। বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করে মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, পরে ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম তা অনুসরণ করে।

উল্লেখ্য, এসব যোগাযোগ হয়েছিল এপস্টিনের কারাদণ্ড ভোগের কয়েক বছর পর, যখন তিনি নিবন্ধিত যৌন অপরাধী হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন।

যা রয়েছে নথিতে

নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের মার্চে সাহিত্য এজেন্ট জন ব্রকম্যানের মাধ্যমে এপস্টিনের সঙ্গে পরিচয় হয় ক্লার্কের। এরপর তিনি এপস্টিনকে ই-মেইল করে নৈশভোজে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

পরের সপ্তাহে একটি পিডিএফ সংযুক্তিসহ বার্তা পাঠান তিনি, যেখানে তাঁদের একটি স্ক্রিপ্ট বা ট্রিটমেন্ট পাঠানোর কথা উল্লেখ ছিল।

প্রতিষ্ঠানটির নাম ছিল ‘এডিস’, যা নিজেদের নারীদের জন্য তৈরি ‘ফ্রি লাক্সারি পর্ন কোম্পানি’ হিসেবে পরিচয় দিত।

২০১২ সালের মার্চে ক্লার্ক আবার যোগাযোগ করে নিজেদের পরিচয় মনে করিয়ে দেন। জবাবে এপস্টিন জানান, তাঁর মনে আছে। পরে প্রতিষ্ঠানটি ভিডিওর দিকে যাওয়ার সময় বিনিয়োগের জন্য চাপ দিলে এপস্টিন প্রস্তাবটি নাকচ করেন।

প্রায় দুই বছর তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। ২০১২ সালের জুলাইয়ে ম্যানহাটনের একটি গৃহপ্রবেশ অনুষ্ঠানে এপস্টিনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়, আর ২০১৩ সালে লিংকডইনে দুজনের সংযোগ হয়। তবে নথিতে দ্বিতীয়বার সরাসরি সাক্ষাতের কোনো ইঙ্গিত নেই। শেষ পর্যন্ত কোনো বিনিয়োগও হয়নি বলে জানা গেছে।

যিনি প্রতিষ্ঠানের কেউ নন, অথচ প্রভাবশালী

ক্লার্ক অ্যানথ্রপিকে কোনো পদে নেই, বেতনভুক্তও নন। তবে প্রতিষ্ঠানের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, তিনি আমোদেইয়ের ‘সাউন্ডিং বোর্ড’ ও কৌশলগত উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন।

দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম কিংবা সান ভ্যালিতে অ্যালেন অ্যান্ড কোম্পানির সম্মেলনের মতো আয়োজনে তাঁকে নিয়মিত দেখা যায়।

চলতি বছর নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজিত এআই সম্মেলনে প্রতিটি নির্বাহীকে একজন করে অতিথি আনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আমোদেই সঙ্গে নিয়েছিলেন স্ত্রীকে।

অ্যানথ্রপিকের অন্যতম প্রথম দিকের একজন বিনিয়োগকারীকে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত করার পেছনেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইন্টারনেট থেকে মুছে ফেলা তথ্য

২০২২ সালে আমোদেইয়ের সঙ্গে ক্লার্কের বিয়ে হয়। এর আগে ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত গুগলের সাবেক প্রধান নির্বাহী এরিক স্মিটের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল।

তবে ইন্টারনেটে তাঁর সম্পর্কে তথ্য প্রায় নেই বললেই চলে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, প্রকাশ্য নথি থেকে তাঁর উল্লেখ সরিয়ে ফেলতে সচেতন প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। ‘এডিস’-এর ওয়েবসাইটও অনেক আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়।

কৌতূহলোদ্দীপক একটি বিষয় উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। আমোদেইয়ের স্ত্রী কে জানতে চাইলে অ্যানথ্রপিকের নিজস্ব চ্যাটবট ক্লদ প্রথমে ভুল করে তাঁর বোন ড্যানিয়েলা আমোদেইয়ের নাম বলে। পরে নিজেকে সংশোধন করে জানায়, এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য তার কাছে নেই।

যে প্রেক্ষাপটে এই প্রতিবেদন

খবরটি এমন সময়ে এলো, যখন অ্যানথ্রপিক শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন অঙ্ক উল্লেখ করা হচ্ছে, যা এক ট্রিলিয়ন ডলারের আশপাশে।

ফোর্বসের হিসাবে আমোদেইয়ের সম্পদের পরিমাণ ১৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ক্লার্কের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি। নথিতে বিনিয়োগ হওয়ার বা পরবর্তী কোনো সাক্ষাতের প্রমাণও নেই।

এ বিষয়ে অ্যানথ্রপিক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।


তথ্যসূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ থেকে অবমুক্ত নথি