নিজস্ব প্রতিবেদক | ক্রাইম ক্রনিকল


যুক্তরাজ্যে এক বাংলাদেশি যুবকের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহসহ কয়েকজনের নাম আলোচনায় এসেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।


অভিযোগকারী জুবায়ের আহমদ জানিয়েছেন, গত শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে কর্মস্থল থেকে মোটরসাইকেলে বাসায় ফেরার পথে একটি মাইক্রোবাস তার মোটরসাইকেলের কাছাকাছি এসে বিপজ্জনকভাবে চলাচল করে। তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণাগারে কর্মরত বলে দাবি করেছেন।


জুবায়েরের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটির কারণ জানতে তিনি গাড়িটির পিছু নিলে এক পর্যায়ে সেটি একটি গ্রামীণ সড়কে থামে। এরপর গাড়ি থেকে কয়েকজন ব্যক্তি নেমে এসে তার ওপর হামলা চালায়।


তিনি দাবি করেন, হামলার সময় একজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করলে তার পেটে জখম হয়। ঘটনার সময় তিনি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন বলেও জানান। তার অভিযোগ, বিষয়টি টের পেয়ে হামলাকারীরা ফোনটি নিয়ে যায়।


জুবায়ের আরও বলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্রিটিশ নারী পুরো ঘটনার কিছু অংশ ভিডিও করেন এবং পরে আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিতে সহায়তা করেন। ওই নারী পুলিশের কাছেও সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে দাবি তার।


ঘটনার পর ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, এ ঘটনায় জাকির নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি।


এদিকে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মো. এম এ হিমেল এক বিবৃতিতে অভিযোগগুলোকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।


তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এসব অভিযোগের মাধ্যমে পুলিশি তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।


অন্যদিকে অভিযোগকারী পক্ষ বলছে, এটি একটি গুরুতর হামলার ঘটনা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন।


অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত দায় ও সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।