জাতীয় ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল


আন্দোলনকারীদের ভাষায় আজকের দিনটির নাম '৩৬ জুলাই'। ক্যালেন্ডার বলছে ৫ আগস্ট, কিন্তু তাঁরা জুলাইয়ের হিসাব থামাননি।


২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতন ঘটে দেড় দশকের আওয়ামী লীগ সরকারের। আজ সেই দিনের দুই বছর পূর্ণ হলো।


শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রাণ দিয়েছিলেন সেই আন্দোলনে। তাঁদের স্মরণেই আজ সারা দেশ থমকে দাঁড়িয়েছে এক দিনের জন্য।


সকাল থেকেই দেশের ৬৪ জেলার জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে চলছে পুষ্পস্তবক অর্পণ। প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষার্থী – সারি ধরে দাঁড়িয়ে ফুল দিচ্ছেন সবাই।


প্রতিটি জেলায় শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও অনুষ্ঠান গড়িয়েছে স্মৃতিচারণায়।


রাজধানীসহ বড় শহরগুলোর প্রধান সড়ক সেজেছে জাতীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন আর রঙিন নিশানে। সন্ধ্যায় কিছু জায়গায় আলোকসজ্জারও পরিকল্পনা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।


আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান – দিনটি ঘিরে আয়োজনের কমতি নেই। আলোকচিত্র প্রদর্শনীগুলোতে ঠাঁই পেয়েছে অভ্যুত্থানের সেই উত্তাল দিনগুলোর ছবি।


মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় শহীদদের জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অনেকে পরিবারের সঙ্গে গিয়ে দোয়ায় শরিক হয়েছেন।


সরকারি আয়োজনের বাইরে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোও আলাদা কর্মসূচি সাজিয়েছে। কেউ র‍্যালি বের করেছে, কেউ বসেছে গোলটেবিল বৈঠকে।


দিবসটি ঘিরে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত সোমবার (৩ আগস্ট) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি যায় সংশ্লিষ্টদের কাছে।


চিঠিতে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজনের কথা বলা হয়। সেই সঙ্গে দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা করতেও নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়।


দিবসটি ঘিরে রাজধানীসহ সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অনুষ্ঠানস্থলে বসানো হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। রাজধানীর কয়েকটি সড়কে যান চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় সকাল থেকে ভোগান্তিতে পড়েন কিছু যাত্রী।


উৎসবের রং আর শোকের ছায়া – দিনটি অনেকের কাছে দুই-ই। স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিতে আসা শহীদ পরিবারের সদস্যদের চোখে আজও শুকায়নি জল।


দুই বছর কেটে গেছে, তবু ঘরের কোণটা খালিই থেকে গেছে। সন্তান হারানো মা-বাবার কাছে এই দিনটি বিজয়ের চেয়ে বেশি স্মরণের।


সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে অনেকেই বলছেন একই কথা – শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার কাজটা এখনো বাকি।