স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল


বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, ভাষা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডসপ্রাপ্ত পল্লব চাকমা। জাতীয় পরিসর ছাড়িয়ে তাঁর কর্মকাণ্ড এখন এশিয়ার আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিস্তৃত।

 

বিশ্বের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি তুলে ধরেছে ঢাকায় অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন।

 

হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি এশিয়া ইন্ডিজেনাস পিপলস প্যাক্টের (এআইপিপি) মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আদিবাসী সংগঠনগুলোর এই নেটওয়ার্ক অধিকার, সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে।

 


কাপেং ফাউন্ডেশনে সহকর্মীদের সাথে পল্লব চাকমা | ছবি: অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস


যেখান থেকে শুরু

পার্বত্য চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা পল্লবের শৈশব থেকেই আদিবাসী ভাষা ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে সেই অভিজ্ঞতাই তাঁর পেশাগত জীবনের ভিত হয়ে ওঠে।

 

২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস স্কলারশিপ নিয়ে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ অস্ট্রেলিয়া থেকে মধ্যস্থতা সংঘাত নিরসন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন তিনি।

 

তাঁর ভাষায়, ওই স্কলারশিপ ছিল জীবনের একটি পরিবর্তনকারী অভিজ্ঞতা। বৈচিত্র্য, অন্তর্ভুক্তি শান্তিপূর্ণ সংলাপ নিয়ে অর্জিত জ্ঞান পরবর্তী কাজে সহায়ক হয়েছে বলে তিনি জানান।

 

দেশে বিদেশে

পল্লব বর্তমানে আদিবাসী অধিকারবিষয়ক সংগঠন কাপেং ফাউন্ডেশনের বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির আগে তিনি সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ছিলেন।

 

২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস অ্যালামনাই গ্র্যান্টের সহায়তায় রাঙামাটিতে একটি বৈচিত্র্য উৎসবের আয়োজন করেন তিনি তাঁর সহকর্মীরা। আদিবাসী অনাদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে বোঝাপড়া সম্প্রীতি বাড়ানোই ছিল লক্ষ্য।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হেড অব মিশন ক্লিনটন পোবকে। আলোচনায় উঠে আসে পার্বত্য চট্টগ্রামে বহুভাষিক শিক্ষার গুরুত্ব আদিবাসী জ্ঞানব্যবস্থা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা।

 

চলতি বছর জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের ২৫তম অধিবেশনে এশিয়া ইন্ডিজেনাস পিপলস ককাসের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। সেখানে উন্নয়ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কার্যকর অংশগ্রহণের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন।

 

২০২৪ সালে এআইপিপি কাপেং ফাউন্ডেশনকে অগ্রণী ডিফেন্ডার সেন্টার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সংগঠনের পক্ষে সম্মাননাটি গ্রহণ করেন পল্লব।

 

তাঁর মতে, আদিবাসী ভাষা সংস্কৃতি বৃহত্তর সমাজের বৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে জনগোষ্ঠী, সরকার উন্নয়ন সহযোগীদের একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।


তথ্যসূত্র: অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন