স্পোর্টস ডেস্ক| ক্রাইম ক্রনিকল
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ব্যবধান ছিল স্পষ্ট—নেদারল্যান্ডস ৫, জাপান ১৮। কিন্তু ডালাসের মাঠে সেই সংখ্যার হিসাব মিলল না। বল দখল, পাসিং, পরিকল্পনা—সব দিকেই এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিতে পারল না ইউরোপের পরাশক্তি নেদারল্যান্ডস। জাপানের দৃঢ়তা আর ‘না হারার মানসিকতা’ ম্যাচটিকে শেষ পর্যন্ত ২–২ সমতায় আটকে দেয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল ডাচদের হাতে। প্রায় ৬০ শতাংশ সময় বল ছিল তাদের পায়ে, পাসও করেছে পাঁচ শতাধিক। তবে জাপান ছিল নিজেদের পরিকল্পনায় অটল—কমপ্যাক্ট ডিফেন্স, শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্লক আর দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক।
প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ রূপ নেয় নাটকে। ৫১ মিনিটে ডাচ অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইকের হেডে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। তবে জাপানের জবাব আসতে সময় নেয়নি। মাত্র ছয় মিনিটের মাথায় কেইতো নাকামুরার গোলে সমতা ফেরায় ‘সামুরাই ব্লু’রা।

৬৪ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। রায়ান গ্রাভেনবার্চের অ্যাসিস্টে গোল করেন ক্রিসেনসিও সামারভিল। মনে হচ্ছিল ম্যাচটা ডাচদের দখলেই যাচ্ছে।
কিন্তু জাপান থামেনি। শেষ মুহূর্তে চাপ বাড়িয়ে ৮৮ মিনিটে কর্নার থেকে দাইচি কামাদার হেডে সমতা ফেরায় তারা। স্টেডিয়ামে তখন উল্লাসে ফেটে পড়ে জাপানি সমর্থকরা।
ম্যাচ শেষে পরিসংখ্যান বলছে এক ভিন্ন গল্প—বল দখল ও পাসে এগিয়ে থেকেও জাপানের শট সংখ্যা ছিল প্রায় সমান। অর্থাৎ, আধিপত্য নয়, কার্যকারিতাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেছে।
২০১৮ সাল থেকে হজিমে মরিয়াসুর গড়ে তোলা এই জাপান দল আবারও দেখাল—বড় দলের বিপক্ষে ভয় নয়, লড়াইই তাদের পরিচয়। কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনকে হারানোর পর এবার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও তারা প্রমাণ করল, ‘আন্ডারডগ’ শব্দটা তাদের জন্য আর প্রযোজ্য নয়।
এই ড্রয়ে গ্রুপের দুই দলই পেল ১ পয়েন্ট করে। তবে প্রশ্নটা থেকে যাচ্ছে—বল দখল কি সত্যিই জয়ের নিশ্চয়তা? জাপান বলছে, না।