আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
সম্প্রতি স্বাক্ষরিত শান্তি সমঝোতার এক সপ্তাহ না পেরোতেই হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অবস্থানে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। পাল্টাপাল্টি এই সামরিক তৎপরতায় দুই দেশের মধ্যে হওয়া ভঙ্গুর সমঝোতা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার আইআরজিসি মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র শান্তি সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করেছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এখনো ইরানের এই হামলার দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর এটিই প্রথম সরাসরি সামরিক সংঘাতের ঘটনা। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ও সেন্টকমের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা বাহরাইন জানিয়েছে, শনিবার ভোরে তাদের ভূখণ্ডে ইরানি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি এবং তেহরানের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
একই সময়ে হরমুজ প্রণালীতে একটি তেলবাহী জাহাজে অজ্ঞাত হামলার খবর জানিয়েছে ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)। সংস্থাটি জানায়, জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো ক্রু সদস্য হতাহত হননি। ওই নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতির কারণে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়েছে যৌথ সামুদ্রিক তথ্য কেন্দ্র (জেএমআইসি)। সংস্থাটি ঝুঁকির মাত্রাকে “উদ্বেগজনক” পর্যায়ে উন্নীত করেছে। একই সঙ্গে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ওমান উপকূলের কাছাকাছি বিকল্প রুট ব্যবহারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে শুক্রবার হরমুজ প্রণালীর আশপাশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনায় বিমান হামলার কথা জানিয়েছিল মার্কিন সেন্টকম। তাদের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
মূলত হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করেই নতুন উত্তেজনার সূত্রপাত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘটনাটিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি আপাতত বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নেওয়ার পর্যায়ে নেই।
অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত থাকা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সহিংসতার জবাব সহিংসতার মাধ্যমেই দেওয়া হবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। সাম্প্রতিক সমঝোতায়ও প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে কোনো ধরনের ফি বা শুল্ক আদায়ের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নির্ধারিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে মুক্ত নৌযান চলাচলের পক্ষে, ইরান সেখানে নিজেদের অধিকার দাবি করে আসছে।
নতুন করে শুরু হওয়া এই উত্তেজনা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিই নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।