আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল


ইয়েমেনের কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন পাকিস্তানি ও একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিক রয়েছেন।


মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) হামলার এই ঘটনা ঘটে। ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীই হামলাটি চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার।


ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, ‘তিহামা’ নামের ইয়েমেনি পতাকাবাহী জাহাজটি প্রণালি অতিক্রম করার সময় তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

জাহাজটি খাদ্যসামগ্রী বহন করছিল বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।


উদ্ধারকারীদের ওপরও হামলা

সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগটি এসেছে উদ্ধার অভিযান নিয়ে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, নাবিকদের উদ্ধারে দল পৌঁছানোর সময় জাহাজটি লক্ষ্য করে আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।


উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটাতে এবং হতাহতের সংখ্যা বাড়াতেই এই দ্বিতীয় হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


ইয়েমেন কোস্টগার্ডের সর্বশেষ বিবৃতিতে বলা হয়, নিহত ছয়জনের মধ্যে চারজন জাহাজের নাবিক এবং দুজন উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া বাহিনীর সদস্য।


প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল, হামলায় চারজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারী দলের একজন সদস্যও আহত হন।


জানা গেছে, হামলার পর নাবিকরা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এরপর ইয়েমেনি কোস্টগার্ড তাঁদের কাছে পৌঁছালে সেই বাহিনীও গুলির মুখে পড়ে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ একটি সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান।


ঘটনাটি ঘটে ইয়েমেনের পেরিম দ্বীপের উত্তর-পূর্ব দিকে। ক্ষেপণাস্ত্রটি তাইজ প্রদেশের পূর্বাঞ্চল থেকে ছোড়া হয় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।


হামলার বিষয়ে হুতিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


যে প্রেক্ষাপটে এই হামলা

গত মাসে হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে। ২০ জুলাইয়ের ওই ঘোষণায় তারা দাবি করে, সৌদি আরব ইয়েমেনকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। রিয়াদ অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


অবরোধ ঘোষণার পর থেকেই লোহিত সাগরে সৌদি ট্যাংকার ও দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে আসছে গোষ্ঠীটি।


একই সময়ে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে বছরব্যাপী চলা যুদ্ধবিরতিও ভেঙে পড়েছে। জাতিসংঘ-সমর্থিত ২০২২ সালের সমঝোতাটি ভেস্তে যায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর।


হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৌদি তেল ট্যাংকারের জন্য বাব আল-মান্দেব এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর এই প্রণালির আশপাশের ভূখণ্ড হুতিদেরই নিয়ন্ত্রণে।


আরব উপদ্বীপের এক পাশে হরমুজ, অন্য পাশে বাব আল-মান্দেব — দুটি প্রণালিই এখন ঝুঁকিতে থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন চাপে পড়েছে।


তথ্যসূত্র: ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় ও কোস্টগার্ড, রয়টার্স, এএফপি, আল আরাবিয়া, ইউকেএমটিও