আন্তর্জাতিক ডেস্ক। ক্রাইম ক্রনিকল
তীব্র রাজনৈতিক চাপ, দলীয় অসন্তোষ এবং জনপ্রিয়তা হ্রাসের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। নতুন দলীয় নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন।
সোমবার লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দেওয়া এক আবেগঘন বক্তব্যে স্টারমার তাঁর সিদ্ধান্তের কথা জানান। এ সময় তাঁর পাশে ছিলেন স্ত্রী ভিক্টোরিয়া স্টারমার। বক্তব্যের একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
স্টারমার বলেন, “আমার দল এখন যে প্রশ্নটি করছে, তা হলো আগামী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি এখনো সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কি না। আমি আমার সহকর্মীদের কাছ থেকে সেই প্রশ্নের উত্তর পেয়েছি এবং সেটি সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করছি।”
তিনি বলেন, “আমার রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে দেশের স্বার্থকে সবার আগে রাখার চেষ্টা ছিল। সেই কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
স্টারমার জানান, পদত্যাগের সিদ্ধান্তের বিষয়টি তিনি সোমবার সকালে রাজা তৃতীয় চার্লসকে অবহিত করেছেন। তাঁদের মধ্যে টেলিফোনে কথাও হয়েছে।

ডাউনিং স্ট্রিটে স্টারমার ও তার স্ত্রী ভিক্টোরিয়া।
লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটিকে (এনইসি) নতুন নেতা নির্বাচনের জন্য দ্রুত সময়সূচি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ৯ জুলাই থেকে নেতৃত্ব নির্বাচনের মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে এবং পার্লামেন্টের গ্রীষ্মকালীন অবকাশের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
এতে আগামী সেপ্টেম্বর পার্লামেন্টের নতুন অধিবেশন শুরুর আগেই যুক্তরাজ্য নতুন প্রধানমন্ত্রী এবং লেবার পার্টি নতুন নেতা পেতে পারে।
যুক্তরাজ্যের সংসদীয় ব্যবস্থায় পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাই প্রধানমন্ত্রী হন। বর্তমানে হাউস অব কমন্সে লেবার পার্টির সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে নতুন নেতা নির্বাচিত হলেই তিনি দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ তৈরি হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমারের পদত্যাগে সবচেয়ে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম। সম্প্রতি একটি উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ার পর লেবার পার্টির অনেক সংসদ সদস্য তাঁর নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানাতে শুরু করেছেন।
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে ভূমিধস বিজয় এনে দিয়েছিলেন স্টারমার। দীর্ঘ সময় পর কনজারভেটিভদের ক্ষমতাচ্যুত করে সরকার গঠন করেছিল তাঁর দল। সে সময় তিনি যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
তবে ক্ষমতায় আসার পর একাধিক নীতি পরিবর্তন, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং জনসমর্থন কমে যাওয়ার কারণে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দলীয় অভ্যন্তরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
স্টারমার বলেন, “ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া যেন সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য আমি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। আমার উত্তরসূরির প্রতি পূর্ণ সমর্থন থাকবে।”
তাঁর পদত্যাগ কার্যকর হলে এক দশকের মধ্যে যুক্তরাজ্য সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পাবে। ব্রিটিশ রাজনীতিতে এটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।