নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ | ক্রাইম ক্রনিকল
সিরাজগঞ্জ শহরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ব্যানারে একটি ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলের পরপরই অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার কাঠেরপুল এলাকায় মিছিলটি বের করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন নবগঠিত সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পরিচয়ধারী আল-আমিন। মিছিলটি রহমতগঞ্জ কবরস্থান এলাকা থেকে শুরু হয়ে সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দিকে অগ্রসর হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত সরে যান।
মিছিলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকসহ প্রায় শতাধিক ব্যক্তি অংশ নেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এ সময় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘সকল রাজবন্দীদের মুক্তি চাই’ এবং ‘অ্যাকশন, অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
মিছিলে জেলা পর্যায়ের নেতাদের পাশাপাশি উপজেলা ও থানা পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন বলে অংশগ্রহণকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঝটিকা মিছিলের ঘটনার পর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে পুলিশের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী ও পথচারী বলেন, আকস্মিক এ ধরনের কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় অনেকেই পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন লঙ্ঘনের কোনো বিষয় পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা বিভিন্ন মামলায় আটক ও কারাবন্দী নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি পালন করেছেন।
এদিকে ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নজরদারি অব্যাহত থাকবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় ও কর্মসূচির প্রকৃতি যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।