আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল


ভারতের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণের জগতে দুই দশকের বেশি সময় ধরে পরিচিত নাম প্রশান্ত কিশোর। তবে নিজে কখনো ভোটের মাঠে প্রার্থী হননি তিনি- এই ব্যতিক্রমটি ঘুচল বিহারের বাঁকিপুর আসনের উপনির্বাচনে।


গত ৩ আগস্ট ঘোষিত ফলাফলে জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর বিজেপি প্রার্থী নীরজ সিনহাকে ১৮ হাজার ৯৫৩ ভোটে হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী কিশোর পেয়েছেন ৬৩ হাজার ২০৩ ভোট, আর সিনহার ঝুলিতে গেছে ৪৪ হাজার ২৫০ ভোট। আরজেডি প্রার্থী রয়েছেন অনেকটা পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে। 


বিজেপির ঘাঁটিতে প্রথম হার

পাটনার এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ডেকান হেরাল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা ৩১ বছর ধরে এখানে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভেঙেছে এই ফল।


আসনটি খালি হয়েছিল বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন গত এপ্রিলে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়ে বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করায়। ভোটগ্রহণ হয় ৩০ জুলাই।


নীতিন নবীন ২০০৬ সালে উপনির্বাচনে জিতে বিধানসভায় আসার পর ২০১০, ২০১৫, ২০২০ ও ২০২৫—চারটি নির্বাচনেই বাঁকিপুর থেকে জয়ী হয়েছেন। তাঁর বাবা নবীন কিশোর প্রসাদ সিনহাও ছিলেন বিজেপির প্রবীণ নেতা।


উপনির্বাচনটি ঘিরে বিজেপির অভ্যন্তরেও নাটকীয়তা দেখা যায়। প্রথমে অভিষেক বান্টিকে মনোনয়ন দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দল প্রার্থী বদলে নীরজ কুমার সিনহাকে দাঁড় করায়।


অভিযোগ ও পাল্টা অবস্থান

প্রচারের সময় কিশোর পাটনার জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার কার্তিকেয় কুমার শর্মার বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয় দেখাতে পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং স্থানীয় কর্মীদের বেআইনিভাবে আটক রাখার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, বেশ কয়েকজনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে জানানো হয়েছে।


ফল ঘোষণার পর কিশোর ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জয়-পরাজয় রাজনীতির স্বাভাবিক অংশ। যাঁরা প্রতিপক্ষকে ভোট দিয়েছেন, নির্বাচনের পর তাঁরাও সমানভাবে নিজেদের লোক—এমন বার্তাই দিয়েছেন তিনি।


নয় মাস আগের ভরাডুবি

এই জয় এসেছে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে। ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে জন সুরাজ ২৪৩ আসনের মধ্যে ২৩৮টিতে প্রার্থী দিয়েও একটিতেও জিততে পারেনি; অধিকাংশ প্রার্থী জামানত হারান।


ফলাফলের পর কিশোর বিহারবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে সক্রিয় রাজনীতি ছাড়বেন না বা রাজ্য ছেড়ে যাবেন না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন।


এনডিটিভি ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন, নিজে ভোটে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তটি ভুল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাঁর ভাষ্য, দলের ভোট ৪ শতাংশের নিচে নামবে—এমনটা তিনি কখনো ভাবেননি।


পটভূমি: কৌশলী থেকে প্রার্থী

২০২১ সালে নির্বাচনী কৌশলের কাজ থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন কিশোর। তবে ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু নির্বাচনের আগে অভিনেতা বিজয়ের দল তামিলগা ভেট্রি কড়গমের (টিভিকে) সঙ্গে যুক্ত হন তিনি।


অভিষেক নির্বাচনে টিভিকে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টিতে জিতে রাজ্যের বৃহত্তম দল হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ভারতীয় গণমাধ্যমের একাংশ এই ফলের কৃতিত্ব কিশোরকে দিলেও তিনি নিজেকে দলের আনুষ্ঠানিক কৌশল উপদেষ্টা নয়, বিজয়ের বন্ধু হিসেবেই পরিচয় দিয়েছেন।


এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, জোট ছাড়া একা লড়লে বিজয়ের তামিলনাড়ু জয়ের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে—সে সময় অনেক জরিপকারীই এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত ছিলেন না।