নিজস্ব প্রতিবেদক | ক্রাইম ক্রনিকল


খুলনায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কম্বোডিয়ায় নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশি যুবকদের সাইবার প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করার অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতারের পর আদালতে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।


পিবিআই সূত্রে জানা যায়, খুলনার দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা মো. জিহাদ আলী লস্কর দীর্ঘদিন ধরে কম্বোডিয়ায় অবস্থান করতেন। সেখানে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে স্ত্রী সুমাইয়া সুমি ওরফে সুমি আক্তারের মাধ্যমে প্রতিবেশী মো. মোসতাকীম হাসান কাজী, শেখ মনিরুল ইসলাম মুকুলসহ পাঁচজনের কাছ থেকে জনপ্রতি ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করে তাদের কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়।


কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীদের প্রতিশ্রুত চাকরি দেওয়া হয়নি। পরে কৌশলে পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে এসে তারা জিহাদ আলী লস্কর ও তার স্ত্রী সুমাইয়া সুমি আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে পৃথক দুটি সিআর মামলা দায়ের করেন।


আদালতের নির্দেশে পিবিআই খুলনা জেলা মামলা দুটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করলে আদালত থানায় নিয়মিত মামলা রুজুর নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দৌলতপুর থানায় ২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৭/২২ ধারায় পৃথক দুটি মামলা (মামলা নং-১৪ ও ১৫) রুজু হয়।


পরবর্তীতে গত ২৭ জুলাই পিবিআই খুলনা স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা দুটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে এসআই (নিঃ) রেজোয়ান ও এসআই (নিঃ) মো. সোহানুর রহমান তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।


তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ৩ আগস্ট সাভারের আলমনগর হাউজিং এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে জিহাদ আলী লস্কর ও সুমাইয়া সুমি আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।


পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীদের আত্মীয়-স্বজনের কাছে মাসিক এক লাখ টাকা বেতনের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর তাদের কম্বোডিয়ায় নিয়ে গিয়ে চাকরি না দিয়ে ভয়েস পরিবর্তন করে নারী পরিচয়ে ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যবয়সী পুরুষদের সঙ্গে অনলাইনে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কথোপকথনের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের মতো সাইবার প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হতো।


এ কাজে রাজি না হলে তাদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হতো। ভুক্তভোগীদের কোনো বেতন দেওয়া হতো না, এমনকি পর্যাপ্ত খাবারও দেওয়া হতো না বলে তদন্তে জানা গেছে।


একপর্যায়ে ভুক্তভোগীরা কৌশলে পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। পরে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে জিহাদও দেশে ফিরে আসে। ভুক্তভোগীরা তাদের টাকা ফেরত চাইলে জিহাদ ও তার স্ত্রী সাভারে বাসা ভাড়া নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।


পিবিআই জানিয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে আরও কোনো সংঘবদ্ধ মানব পাচার বা সাইবার প্রতারণা চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।