আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল


যুক্তরাষ্ট্রে রক্তের সরবরাহ সংকট এখন "সংকটকালীন" পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে আমেরিকান রেড ক্রস। সংস্থাটির ১৫০ বছরের ইতিহাসে এটিই দ্বিতীয়বার, যখন রক্তের মজুত এতটা কমে গেছে।

রেড ক্রসের সঙ্গে যুক্ত ডা. কোর্টনি লরেন্স এক সাক্ষাৎকারে জানান, দাবানল ও তীব্র তাপপ্রবাহসহ একাধিক কারণ মিলে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত মাসেই সরবরাহ পর্যায় এক-চতুর্থাংশ কমে গেছে।

গ্রীষ্মকালেই এই সংকট আঘাত হেনেছে, যখন হাসপাতালগুলোতে সাধারণত রক্তের চাহিদা বেড়ে যায়। লরেন্স বলেন, এই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা বেশি ঘটে এবং মানুষ বাইরে বেশি সময় কাটানোর কারণে আঘাতজনিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজনও বেড়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের একক বৃহত্তম রক্ত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আমেরিকান রেড ক্রস, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পূরণ করে। লরেন্সের ভাষ্যমতে, বছরের এই সময়ে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ইউনিট বেশি রক্ত সরবরাহ করতে হচ্ছে সংস্থাটিকে, ফলে তাদের মজুত থেকে "অত্যন্ত গভীরভাবে" টান পড়ছে।

লরেন্স বলেন, রক্তের একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকায় তা বহু আগে থেকে মজুত করে রাখার সুযোগ নেই। রক্তকণিকা সময়ের সঙ্গে ক্ষয় হতে থাকে বলে দান করা রক্ত ৪২ দিনের মধ্যেই ব্যবহার করতে হয়। বর্তমানে সব ধরনের রক্তের প্রয়োজন থাকলেও, বিশেষভাবে প্রয়োজন ও-পজিটিভ রক্তের।

লরেন্স জানান, তাদের সঙ্গে কথা বলা হাসপাতালগুলো মনে করছে, এই সংকট নিয়মিত অস্ত্রোপচার কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু হাসপাতাল এমনকি বিবেচনা করছে, জরুরি প্রয়োজনে পর্যাপ্ত রক্ত না থাকলে রোগীদের অন্য ট্রমা সেন্টারে পাঠাতে হবে কি না।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, একাধিক কারণ একসঙ্গে মিলেই বিদ্যমান ঘাটতি সংকটে রূপ নিয়েছে। তীব্র গরমের কারণে মানুষ কখন বাইরে বের হবেন, তা নিয়ে সতর্ক হয়ে পড়েছেন, আর কিছু প্রতিষ্ঠান রক্তদান শিবির আয়োজনের পরিকল্পনা করলেও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যকর পরিবেশ বজায় রাখতে পারেনি।

দাবানলের সংখ্যা বৃদ্ধিও কিছু সম্পদ অন্যদিকে সরিয়ে নিয়েছে। এ ছাড়া দেশজুড়ে "ব্যাপক খাদ্যবাহিত অসুস্থতা" ছড়িয়ে পড়ার মতো ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিও দেখা দিয়েছে বলে জানায় রেড ক্রস — যা মূলত সাইক্লোস্পোরিয়াসিস নামক পরজীবীবাহিত তীব্র ডায়রিয়া রোগকে ইঙ্গিত করে।

এর আগে আমেরিকান রেড ক্রস প্রথমবার রক্ত সংকট ঘোষণা করেছিল ২০২২ সালের জানুয়ারিতে, কোভিড মহামারি ও তীব্র শীতকালীন আবহাওয়ার সময়। এদিকে কানাডাতেও জুনের শুরু থেকে রক্তের সরবরাহ প্রায় ২০ শতাংশ কমে গেছে বলে জানিয়েছে কানাডিয়ান ব্লাড সার্ভিসেস।

সংস্থাটির বিবৃতি অনুযায়ী, গত ছয় সপ্তাহে প্রতি সপ্তাহে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় দেড় থেকে আড়াই হাজার কম হয়েছে, ফলে রোগীদের চাহিদা মেটাতে বিদ্যমান মজুত থেকে টেনে নিতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে, কানাডায় রক্তদান কমে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো অজানা।

কানাডিয়ান ব্লাড সার্ভিসেস আরও জানায়, গ্রীষ্মকালে রক্তদানে মৌসুমি ভাটা প্রত্যাশিত ও পরিকল্পনায় বিবেচিত হলেও, এবারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং স্বাভাবিক গ্রীষ্মকালীন ধারার তুলনায় অনেক নিচে নেমে গেছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলে, বেশ কয়েকটি রক্তের গ্রুপের মজুত এখন সীমিত দিনের জন্য টিকে থাকার মতো পর্যায়ে রয়েছে — এই প্রবণতা উল্টে না গেলে রোগী সেবার জন্য তা টেকসই নয়।