জাতীয় ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল

 

ঢাকা মেট্রোরেলের স্টেশনে যাত্রীদের ওঠানামার সুবিধার জন্য রয়েছে এস্কেলেটর। তবে অনেক সময় স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, কোনো একটি এস্কেলেটর বন্ধ। এতে বিশেষ করে বয়স্ক, অসুস্থ কিংবা ভারী ব্যাগ বহনকারী যাত্রীদের সিঁড়ি ব্যবহার করতে হয়। প্রশ্ন ওঠেমেট্রোরেলের এস্কেলেটর কেন মাঝে মাঝে বন্ধ রাখা হয়?

 

এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এস্কেলেটর একটি চলমান যান্ত্রিক ব্যবস্থা হওয়ায় নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পরিদর্শন প্রয়োজনীয় মেরামতের জন্য সেটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা স্বাভাবিক। যন্ত্রের কোনো অংশে ত্রুটি ধরা পড়লে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেও সেটি চালু না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

 

এস্কেলেটরের সেন্সর, মোটর, চেইন, ধাপ, হ্যান্ডরেল বা অন্যান্য যান্ত্রিক বৈদ্যুতিক অংশে সমস্যা দেখা দিলে পুরো ব্যবস্থা পরীক্ষা না করে চালু করা ঝুঁকিপূর্ণ। একইভাবে কোনো অস্বাভাবিক শব্দ, কম্পন কিংবা চলাচলে সমস্যা দেখা দিলেও ত্রুটি নির্ণয় মেরামতের জন্য এস্কেলেটর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হতে পারে।

 

অর্থাৎ, একটি এস্কেলেটর বন্ধ দেখলেই সেটিকে নষ্ট বা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকেজোএমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ বা নিরাপত্তাজনিত সাময়িক ব্যবস্থা হতে পারে।

 

তবে দীর্ঘ সময় কোনো এস্কেলেটর বন্ধ থাকলে বিষয়টি ভিন্ন। তখন রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতা, খুচরা যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা এবং মেরামত শেষ করতে কতটা সময় লাগছেএসব প্রশ্ন সামনে আসে। মেট্রোরেল ব্যবস্থার সামগ্রিক রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা নিয়েও সাম্প্রতিক নিরাপত্তা অডিটে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অডিটে ৭৩০টি ত্রুটিপূর্ণ বেয়ারিং প্যাডসহ বিভিন্ন কাঠামোগত বৈদ্যুতিক সমস্যা শনাক্ত হয়েছে।

 

অন্যদিকে, মেট্রোরেলের মতো গণপরিবহন ব্যবস্থায় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কোনো যন্ত্র সাময়িক বন্ধ রাখা আন্তর্জাতিকভাবেও অস্বাভাবিক নয়। ২০২৪ সালে মেট্রোরেল সেবায় একাধিক সাময়িক বিঘ্নের বিষয়ে তৎকালীন ডিএমটিসিএল ব্যবস্থাপনা জানিয়েছিল, বিশ্বের অন্যান্য মেট্রো ব্যবস্থাতেও বিভিন্ন কারণে ধরনের অপারেশনাল বিরতি দেখা যায়।

 

তাই মেট্রো স্টেশনে কোনো এস্কেলেটর বন্ধ থাকলে সেটির কারণ হতে পারে নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ, যান্ত্রিক বা বৈদ্যুতিক ত্রুটি, নিরাপত্তা পরীক্ষা কিংবা প্রয়োজনীয় মেরামত। তবে যাত্রীসেবার স্বার্থে কতক্ষণ তা বন্ধ থাকবে এবং কবে আবার চালু হবে তথ্য দৃশ্যমানভাবে জানানো হলে ভোগান্তি বিভ্রান্তি দুটোই কমানো সম্ভব।