আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
কলোম্বিয়ার রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সাবেক প্রাপ্তবয়স্ক চলচ্চিত্র অভিনেত্রী দেইসি আলেখান্দ্রা ওমানিয়া ওরতিজ়, মঞ্চনামে পরিচিত আমারান্তা হাঙ্ক।
মার্চের সংসদীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে গত ২০ জুলাই বোগোতায় সিনেটর হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি। বামপন্থী জোট 'হিস্টোরিক প্যাক্ট'-এর প্রতিনিধি হিসেবে ৩৩ বছর বয়সী এই রাজনীতিক আগামী চার বছর নর্তে দে সান্তান্দের অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
দলীয় বন্ধ তালিকায় ২৩তম অবস্থানে থেকে সিনেট আসন নিশ্চিত করেন ওরতিজ়। এবারের নির্বাচনে হিস্তোরিক প্যাক্ট দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
মোট ভোটের ২২ দশমিক ৭২ শতাংশ (৪৪ লাখের বেশি ভোট) পেয়ে সিনেটে ২৫টি আসন পায় জোটটি।
রাজনীতির আগে সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন ওরতিজ়। ২০১৭ সালে প্রাপ্তবয়স্ক শিল্পে যুক্ত হন তিনি। প্রায় দুই বছর সেখানে কাজ করার পর নিরাপত্তাহীনতা ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে ২০১৯ সালে সে পেশা ছাড়েন ওরতিজ়।
নির্বাচনী প্রচারে তাঁর মূল প্রতিশ্রুতি ছিল প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট নির্মাতা ও যৌনকর্মীদের অধিকার সুরক্ষা। তিনি সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং অন্যান্য খাতের সমান শ্রম-অধিকার নিশ্চিতের দাবি জানান। এর পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন ও যৌন সহিংসতা প্রতিরোধকেও নিজের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।
সমালোচনার জবাবে ওরতিজ় বলেছেন, অতীত পেশা জনসেবার যোগ্যতা নির্ধারণ করতে পারে না।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সরকারের সমতা মন্ত্রণালয়ে তিনি উপমন্ত্রী হিসেবে বিতর্কিত নিয়োগ পেয়েছিলেন। সে সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাবেক সহকর্মী হুয়ান কার্লোস ফ্লোরিয়ানও।
ওরতিজ়ের এই বিজয় কলোম্বিয়ার ভেতরে-বাইরে ব্যাপক দৃষ্টি কেড়েছে। সমর্থকেরা একে বদলে যাওয়া রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন মনে করছেন।
তবে প্রার্থীর অতীত জনসেবায় কতটা প্রভাব ফেলা উচিত—এই প্রশ্নে সমালোচকদের বিতর্ক এখনো চলমান।