আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল


মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহে সংকট এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে ইয়েমেনে বড় ধরনের স্থল ও নৌ সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান ইয়েমেনি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হুতি নিয়ন্ত্রিত আল-বাইদা প্রদেশে স্থল অভিযান চালানোর পাশাপাশি লোহিত সাগরে নৌ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনাও করছে রিয়াদ।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চল থেকে সৌদি বাহিনীর কয়েকটি ইউনিট সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সময়ে লোহিত সাগর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব।


সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর, সুদান, জিবুতিসহ ১৪টি দেশ এই সামুদ্রিক জোটকে সমর্থন জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সৌদি দূতাবাসও জানিয়েছে, ‘লোহিত সাগর প্রতিরক্ষা জোট’ গঠনের লক্ষ্যে প্রায় ৫০টি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১৪টি দেশ অংশ নিতে সম্মত হয়েছে।


ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী বর্তমানে ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং লোহিত সাগর উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। গত ২০ জুলাই তারা সৌদি জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ ঘোষণা করে। হুতিদের দাবি, ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।


এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব—দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় সুয়েজ খাল এখন সৌদি তেলবাহী জাহাজের প্রধান বিকল্প পথ। তবে এই রুট তুলনামূলক দীর্ঘ এবং ব্যয়বহুল।


সাম্প্রতিক সময়ে হুতিরা শুধু জাহাজ নয়, সৌদি আরবের অভ্যন্তরেও একাধিক হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, দেশটির পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে ইয়ানবু বন্দরে তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। গত সপ্তাহে ইয়ানবু বন্দরে ড্রোন হামলার দায়ও স্বীকার করেছে গোষ্ঠীটি।


এসব হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে সৌদি আরব ইরাকে ইরান-সমর্থিত শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনের হোদেইদা বন্দরেও সৌদি হামলার খবর পাওয়া গেছে।


আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ইয়ানবু বন্দরে হামলার পর থেকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি হয়ে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।


২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করে। এরপর দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বিমান হামলা ও নৌ অবরোধের জবাবে হুতিরা সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে সেই স্থিতাবস্থা আবারও ভেঙে পড়েছে।