নিজস্ব প্রতিবেদক। ক্রাইম ক্রনিকল 


দেশে স্থানীয়ভাবে কীটনাশক ও বালাইনাশক উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে এ খাতের ৩৬টি কাঁচামাল আমদানির ওপর বিদ্যমান মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সার, ভেটেরিনারি ওষুধ, পশুখাদ্য ও কৃষিযন্ত্রাংশ খাতে একাধিক কর ও শুল্ক-সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

আগামীকাল জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হতে যাওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে এসব উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে।


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট হিসেবে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ বাজেট প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করবেন।


প্রস্তাব অনুযায়ী, কীটনাশক ও বালাইনাশক উৎপাদনে ব্যবহৃত ৩৬টি কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান ভ্যাট শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের ধারণা, এতে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং কৃষক তুলনামূলক কম দামে এসব কৃষি উপকরণ সংগ্রহ করতে পারবেন।


কৃষি উপকরণ উৎপাদনে দেশীয় শিল্পকে উৎসাহিত করার অংশ হিসেবে জিংক সালফেট সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল জিংক অ্যাশ আমদানির ওপর বিদ্যমান আমদানি শুল্কও সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এতে দেশে জিংক সালফেট সার উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের পথ আরও সহজ হবে এবং স্থানীয় শিল্পের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।


প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য প্রয়োজনীয় ভেটেরিনারি ওষুধ আমদানিতেও কর-সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু ব্র্যান্ডের ওষুধে রেয়াতি সুবিধা থাকলেও নতুন প্রস্তাবে সংশ্লিষ্ট ওষুধের জেনেরিক ক্যাটেগরির সব পণ্যের জন্য শূন্য শতাংশ হারে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে প্রয়োজনীয় পশুচিকিৎসা সামগ্রীর সরবরাহ আরও সহজ হবে বলে মনে করছে সরকার।


অন্যদিকে, দেশীয় কাজুবাদাম চাষ ও প্রক্রিয়াজাত শিল্পকে সুরক্ষা দিতে আমদানিকৃত অপ্রক্রিয়াজাত ও প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদামের ওপর শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে যথাক্রমে ১ ও ৫ শতাংশ শুল্ক থাকলেও তা বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে স্থানীয় প্রক্রিয়াজাত শিল্পের কাঁচামাল চাহিদা বিবেচনায় কাঁচা কাজুবাদাম আমদানিতে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।


দেশীয় মৎস্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পকে সুরক্ষা দিতে আমদানিকৃত পাঙ্গাস মাছের ফিলেটের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


এ ছাড়া পোল্ট্রি, ডেইরি ও মাছের খাদ্য উৎপাদনকারী শিল্পের জন্য নতুন তিনটি কাঁচামালকে রেয়াতি সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব কাঁচামাল আমদানিতে শূন্য শতাংশ শুল্ক সুবিধা দেওয়া হবে।

পোল্ট্রি ও ডেইরি খাতের যন্ত্রপাতি এবং যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও নতুন কর-সুবিধার প্রস্তাব রয়েছে। এ খাতে প্রয়োজনীয় কয়েকটি উপকরণ আমদানিতে শূন্য শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছে।


বাজেট প্রস্তাবে সরকার বলেছে, কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দেশীয় শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এসব শুল্ক ও কর-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।