আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসো ফ্রান্সের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে। সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তির সঙ্গে কয়েক বছর ধরে চলা টানাপোড়েন, নিরাপত্তা সংকট এবং সার্বভৌমত্ব নিয়ে মতবিরোধের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নিল দেশটির সামরিক সরকার।
শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ঘোষণায় বুরকিনা ফাসোর যোগাযোগমন্ত্রী গিলবার্ট ওয়েদ্রাওগো জানান, ২৬ জুন থেকে ফ্রান্সের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। প্যারিসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
বুরকিনা ফাসো সরকারের ভাষ্য, দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, আস্থা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের নীতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে সেই ভিত্তি আর বিদ্যমান নেই।
ওয়েদ্রাওগো অভিযোগ করেন, ফ্রান্স বুরকিনা ফাসোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে এবং কথিতভাবে “অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ড” ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তবে ফ্রান্স এর আগে সন্ত্রাসবাদে সহায়তার এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
২০২২ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ফ্রান্সের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে শুরু করে। বুরকিনা ফাসোর নেতৃত্বের অভিযোগ, ফ্রান্সের নীতিতে এখনও ঔপনিবেশিক প্রভাবের ধারাবাহিকতা রয়েছে এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।
সাহেল অঞ্চলের নিরাপত্তা সংকট দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির অন্যতম বড় কারণ। প্রতিবেশী মালি থেকে ছড়িয়ে পড়া সশস্ত্র বিদ্রোহ গত এক দশকে বুরকিনা ফাসোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জঙ্গি হামলা ও সংঘাতে দেশটিতে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে।
বর্তমানে বুরকিনা ফাসোর উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে। এর মধ্যে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জামাআত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন এবং ইসলামিক স্টেট সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়।
তবে বুরকিনা ফাসো সরকার জানিয়েছে, কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত দুই দেশের জনগণের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে না। দেশটিতে অবস্থানরত ফরাসি নাগরিকদের নিরাপত্তাও আইন অনুযায়ী নিশ্চিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
একসময় আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে থাকা ফ্রান্স সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাহেল অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব হারাচ্ছে। মালি, নাইজার ও বুরকিনা ফাসোর মতো দেশগুলো নতুন কূটনৈতিক অংশীদারদের দিকে ঝুঁকছে। ফলে বুরকিনা ফাসোর এই সিদ্ধান্ত শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পরিবর্তন নয়, বরং আফ্রিকার বদলে যাওয়া ভূরাজনৈতিক বাস্তবতারও ইঙ্গিত দিচ্ছে।