নিজস্ব প্রতিবেদক | ক্রাইম ক্রনিকল
যুক্তরাজ্য সরকার এমন একটি আইনের খসড়া প্রকাশ করেছে যা কারো যৌন প্রবৃত্তি বা লিঙ্গ পরিচয় জোরপূর্বক পরিবর্তনের চেষ্টাকে সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করবে। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের জন্য প্রস্তাবিত এই 'কনভার্সন প্র্যাকটিসেস বিল'-এ দোষী সাব্যস্ত হলে সীমাহীন জরিমানা এবং সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, এই তথাকথিত 'থেরাপি'র নামে তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন, ধর্ষণ, মৌখিক ভয়ভীতি, মানসিক চাপ এবং এমনকি 'এক্সরসিজম' বা ভূত তাড়ানোর মতো অমানবিক প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। ২০২৬ সালেও এই নিষ্ঠুর অনুশীলন অব্যাহত রয়েছে, কারণ বিদ্যমান গার্হস্থ্য সহিংসতা ও যোগাযোগ আইনে এই বিশেষ ধরনের নির্যাতনকে সরাসরি মোকাবেলার কোনো বিধান নেই, যা অপরাধীদের আইনের ফাঁকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।
নতুন বিলে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বাইরে গিয়ে অন্য দেশে এই থেরাপি করানো বা করতে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রেও একই আইন প্রযোজ্য হবে। জোরপূর্বক বিবাহ ও নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতি প্রতিরোধ আইনের অনুরূপ দেওয়ানি সুরক্ষাও এই বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে বিলে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, স্বাস্থ্যসেবা পেশাদার, থেরাপিস্ট ও কাউন্সেলরদের বৈধ কার্যক্রম এই আইনের আওতায় পড়বে না — তারা যৌনতা ও লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে রোগীদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা অব্যাহত রাখতে পারবেন। যুক্তরাজ্য ২০২১ সালে এই ধরনের অনুশীলন নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তা পুনরায় নিশ্চিত করেছিল।