অর্থনীতি ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সময় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ করে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে। যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ১২০ ডলারেরও বেশি ছাড়িয়ে যায়, যা ছিল প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা এবং হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার ফলে সেই দাম দ্রুত কমে এখন ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৪ ডলারে নেমে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধকালীন সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি কমেছে। গত কয়েক দিনে তেলের বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কার্যত যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে ফিরে গেছে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও বাংলাদেশে এখনো জ্বালানি তেলের খুচরা মূল্যে কোনো সমন্বয় দেখা যায়নি। ফলে বিশ্ববাজারে মূল্যহ্রাসের সুবিধা সরাসরি পাচ্ছেন না সাধারণ ভোক্তা ও পরিবহন খাতের উদ্যোক্তারা।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে টানা মূল্যপতনের ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশেও জ্বালানি তেলের দাম পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি।
অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে গেলে আমদানি ব্যয় কমার পাশাপাশি পরিবহন ও উৎপাদন খরচও হ্রাস পাওয়ার কথা। কিন্তু সেই সুফল দ্রুত ভোক্তা পর্যায়ে না পৌঁছালে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রত্যাশিত প্রভাব পড়বে না।