অর্থনীতি ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
বিদ্যুতের নতুন মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশে রডের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইস্পাত খাতের উদ্যোক্তারা। তাদের দাবি, বিদ্যুতের বাড়তি মূল্য, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, চট্টগ্রাম বন্দরের মাশুল এবং অন্যান্য ব্যয় বৃদ্ধির ফলে প্রতি টন রডের উৎপাদন খরচ সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) নেতারা। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় মহাসচিব সুমন চৌধুরী, সাবেক সভাপতি মানোয়ার হোসেন ও শেখ মাসাদুল আলমসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএসএমএর হিসাবে, শুধু বিদ্যুতের নতুন মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতি টন রডের উৎপাদন ব্যয় গড়ে ১ হাজার ৭৮৫ টাকা বাড়বে। অন্যদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বন্দর মাশুল ও অন্যান্য ব্যয়ের প্রভাবে মোট ব্যয় বৃদ্ধি দাঁড়াতে পারে ৩ হাজার ৫৬০ টাকা পর্যন্ত।
তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এই অতিরিক্ত ব্যয় সরাসরি ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ, এতে বিক্রি আরও কমে যেতে পারে। ফলে বাড়তি ব্যয়ের বড় অংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকেই বহন করতে হবে, যা শিল্পখাতকে আরও সংকটে ফেলবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএ সভাপতি বলেন, দেশের স্টিলশিল্প বর্তমানে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। নির্মাণ খাতে দীর্ঘস্থায়ী মন্দা, বাজারে চাহিদা হ্রাস, উচ্চ সুদহার, টাকার অবমূল্যায়ন, ডলার সংকট, ঋণপত্র (এলসি) খোলার জটিলতা, কার্যকর মূলধনের ঘাটতি, গ্যাস সরবরাহ সংকট এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, দেশে বর্তমানে ৪০টি আধুনিক স্টিল মিল এবং ১৫০টির বেশি রি-রোলিং মিল রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা বছরে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ টন হলেও দেশের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ টন। ফলে অধিকাংশ কারখানা তাদের উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম ব্যবহার করছে।
মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে শিল্পমালিকরা সচেতন। তবে বিদ্যুৎ খাতের কাঠামোগত অদক্ষতা, ক্যাপাসিটি চার্জ এবং নীতিগত সীমাবদ্ধতার আর্থিক বোঝা উৎপাদনশীল শিল্পের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনো টেকসই সমাধান নয়। এতে শিল্প উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি বিদ্যুতের নতুন মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘শিল্প টিকে থাকলেই অর্থনীতি টিকে থাকবে।’ পাশাপাশি আসন্ন বাজেটে ইস্পাত খাতে নতুন কর আরোপের সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
বিএসএমএর মহাসচিব সুমন চৌধুরী বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গত দুই অর্থবছরে এ খাতে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। শিল্প খাতকে টিকিয়ে রাখতে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করারও আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।