স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেশের সরকারি ও আধা-সরকারি সেবা খাতে এক বছরে ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলে দাবি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনের ফলাফল প্রকাশকালে এ তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটি। জরিপটি ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়কে অন্তর্ভুক্ত করে, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামলের একটি বড় অংশকে প্রতিনিধিত্ব করে।
টিআইবির জরিপে দেখা গেছে, সরকারি সেবা গ্রহণে ঘুষ ও অনিয়ম এখনো ব্যাপকভাবে বিদ্যমান। পাসপোর্ট সেবা গ্রহণকারীদের ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং বিআরটিএ সেবা গ্রহণকারীদের ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ ঘুষ বা দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, ভূমি, কৃষি ও বিচারসংশ্লিষ্ট সেবাতেও দুর্নীতির উচ্চ হার লক্ষ্য করা গেছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার মনে করে, ঘুষ ছাড়া সরকারি সেবা পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। দুর্নীতির শিকার হলেও ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবার কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেনি। তাদের বড় অংশের বিশ্বাস, অভিযোগ করেও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব নয়।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সেবা খাতে ঘুষের ‘প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ’ ঘটেছে। অনেক নাগরিক মনে করেন, ঘুষ না দিলে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যায় না। তার ভাষায়, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৫ সালের জরিপে দুর্নীতির ব্যাপকতা ও গভীরতা আরও বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, সেবা খাতের দুর্নীতি সমাজে বৈষম্য বাড়াচ্ছে। গ্রামীণ, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। ক্ষমতা ও প্রভাবশালীরা সুবিধা পেলেও সাধারণ মানুষকে সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রামাঞ্চলের ৬৬ শতাংশ পরিবার ঘুষের শিকার হয়েছে, যেখানে শহরাঞ্চলে এ হার ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে শহরাঞ্চলের পরিবারগুলোকে তুলনামূলক বেশি পরিমাণ অর্থ ঘুষ হিসেবে দিতে হয়েছে।
টিআইবি দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, সেবার ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ এবং দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি দুর্নীতি দমন কমিশনকে আরও সক্রিয় ও জনআস্থাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছে।