আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
যুদ্ধবিরতির পরও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় শিশুদের সুপরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ইসরায়েল ‘গণহত্যা’র ধারা বজায় রেখেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কমিশন উল্লেখ করে, ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ফলে ফিলিস্তিনি শিশুরা নজিরবিহীন মৃত্যু, আঘাত ও মানসিক ট্রমার শিকার হচ্ছে। শিশুদের এই পরিকল্পিত নিধনযজ্ঞকে ফিলিস্তিনি জাতিকে ধ্বংস করার ইসরায়েলি ‘গণহত্যামূলক অভিপ্রায়ে’র অন্যতম প্রধান প্রমাণ হিসেবে দেখছে জাতিসংঘ।
কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন মুরলিধর বলেন, “২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও শিশুদের হত্যা ও গুরুতর আহত করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী শিশুদের যে সুরক্ষা পাওয়ার কথা, ইসরায়েল তা ক্রমাগত লঙ্ঘন করছে।”
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েল গাজায় মানবিক ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছে। এছাড়া গাজার হাসপাতাল, স্বাস্থ্য ক্লিনিক ও প্রসূতি কেন্দ্রগুলোতে সুপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে, যা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত বছরের অক্টোবরে দুই বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে যুদ্ধবিরতি হলেও বাস্তবে সহিংসতা থামেনি। যুদ্ধবিরতির পর গত আট মাসে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ২৫০ শিশুসহ অন্তত ১,০০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও, উল্টো গাজার ৭০% এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
সীমান্তে ‘হলুদ’ ও ‘কমলা’ রেখা টেনে প্রতিনিয়ত ইসরায়েল নিজেদের দখলকৃত এলাকা বাড়াচ্ছে এবং ভুলবশত সেই সীমানার কাছে যাওয়ায় শিশুদের ওপরও গুলি চালানো হচ্ছে। গাজার পাশাপাশি পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমেও ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর ইসরায়েলি সেনা ও বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা ও গণ-গ্রেপ্তার আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে।
বরাবরের মতোই এই গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘আরেকটি আপত্তিকর প্রোপাগান্ডা’ বলে অভিহিত করেছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন একে ‘জাতিসংঘের নথির ছদ্মবেশে একটি রাজনৈতিক রক্তক্ষয়ী অপবাদ’ বলে দাবি করেন এবং হামাসের অপরাধ ও জিম্মি সংকটের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার জন্য কমিশনের সমালোচনা করেন।
অন্যদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়ে দখলদার বাহিনীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। জাতিসংঘ কমিশন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) কর্তৃক পরোয়ানাভুক্ত ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করে, ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে এবং দায়ী কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।