আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল


আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দীর্ঘ উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ১৪ জুন (রোববার) প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার তথ্য জানান। এর কিছুক্ষণ পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেন।

এর আগে ১২ জুন উভয় পক্ষ চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া বা টেক্সটের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছায়। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করবেন বলে জানা গেছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর ৮০তম জন্মদিনকে সামনে রেখে এই চুক্তিকে একটি বড় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে তুলে ধরতে আগ্রহী ছিলেন। তবে ইরানের নেতৃত্ব শুরু থেকেই বিষয়টিকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক না রেখে রাষ্ট্রীয় স্বার্থের ভিত্তিতে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছে।

যদিও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নথি এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবুও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী উভয় পক্ষই মূল বিষয়গুলোতে প্রায় একমত হয়েছে। চুক্তির বিভিন্ন অংশ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান নিজেদের অবস্থানকে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হিসেবে তুলে ধরছে।

ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌবাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালি দ্রুত পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল।

একই সঙ্গে ইরান নিজ ভূখণ্ডে সংরক্ষিত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমানোর বিষয়েও নীতিগত সম্মতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। বিশ্লেষকদের মতে, এই দুটি পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।

তবে সবকিছু চূড়ান্ত হলেও একটি বড় অনিশ্চয়তা এখনো রয়ে গেছে। লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে ঘিরে চলমান সংঘাত এবং ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ভবিষ্যতে এই চুক্তির বাস্তবায়নে নতুন জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হলেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিশেষ করে লেবানন-ইসরায়েল উত্তেজনা, ভবিষ্যতে চুক্তির স্থায়িত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।