রাজনীতি ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল

 

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে একটি পোস্ট দিয়েছেন, যা মুহূর্তেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পোস্টে তিনি সাম্প্রতিক সহিংসতার একাধিক ঘটনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন।

 

পাটওয়ারী লেখেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক পথরেখা সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন বিরোধী কণ্ঠস্বর দমনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে কি নাএই প্রশ্নের জবাব বাংলাদেশের মানুষের প্রাপ্য, আরও রক্তপাত নয়।

 


সিলেটে অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দুটি হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরেকটি পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, ''এটাই কি আইনের শাসন?''।

 

প্রকৃতপক্ষে গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে হামলার পর একই দিন সন্ধ্যায় শহরে এনসিপির প্রতিবাদ মিছিল চলাকালে আরেক দফা সংঘর্ষ হয় বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে, যাতে দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কয়েকজন আহত হন।

 

পোস্টের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অংশে পাটওয়ারী দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিফের কথা তুলে ধরেন, হবিগঞ্জের হামলায় যার চোখে রড দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। তিনি লেখেন, ছেলেটি এখনো বিশ্বাস করে অস্ত্রোপচারের পর সে আবার পৃথিবী দেখতে পারবে, অথচ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার একটি চোখ আর কখনো ফিরবে না।

 

এই দাবির সত্যতা মেলে একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও। এনসিপি নেতা সারজিস আলম বুধবার তার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানান, আলিফের একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। আহত আলিফকে প্রথমে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

 

পাটওয়ারী সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে লেখেন, তিনি যেভাবে ইচ্ছা ক্ষমতা পরিচালনা করুন, তারা তা মেনে নেবেন, কিন্তু একটি নিরপরাধ শিশুর হারানো দৃষ্টিশক্তি যেন ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

 

এনসিপির অভিযোগ, স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা এই হামলাগুলো চালিয়েছে, যদিও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বারবার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ঘটনার প্রেক্ষাপটে এনসিপি ইতিমধ্যে মামলা দায়ের দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

 


দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বক্তব্য পাটওয়ারীর ফেসবুক পোস্ট থেকে সংগৃহীত ব্যক্তিগত অভিমত অভিযোগ; হামলার পটভূমি সংক্রান্ত তথ্য একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া।