নিজস্ব প্রতিবেদক | ক্রাইম ক্রনিকল 


মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য  সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালার একটি সালিশ বৈঠকে উগ্র আচরণ এবং বিএনপি কর্মীর ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি নেতা ও গণ অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।


বিতর্কিত এই সংসদ সদস্যকে ‘অদ্ভুত প্রাণী’ আখ্যা দিয়ে তাকে খাঁচায় বন্দি করে চিড়িয়াখানায় রাখার প্রকাশ্য দাবি তুলেছেন তিনি।শনিবার (২০ জুন) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিস্ফোরক পোস্টে রাশেদ খান এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

শিবচরে একটি সালিশী বৈঠকে এক বিএনপি কর্মীকে উদ্দেশ্য করে এমপি হানজালার টেবিল চাপড়ে “একেবারে খেয়ে ফেলব” বলে ধমক দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার সূত্র ধরেই ফেসবুক পোস্টে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান রাশেদ খান।


ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান লেখেন, “এমপি হানজালারে চিড়িয়াখানায় রাখা হোক, যাতে চিড়িয়াখানার কাউন্টার থেকে সবাই এই অদ্ভুত প্রাণীটাকে টিকিট কেটে দেখতে পারে! আজকে একজন বিএনপি নেতার সঙ্গে তার যে আচরণ দেখলাম, সত্যিই লজ্জা লাগছে, এসব ম্যানারলেস লোকজন কীভাবে এমপি হলো?”এমপি হানজালার অতীত কর্মকাণ্ড ও ঔদ্ধত্যের সমালোচনা করে তিনি আরও লেখেন, “এর আগে বিএনপিকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলো ‘আমি হানজালা খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি এই দেশে থাকতে পারবে না’। আওয়ামী আমলে এদের এসব গর্জন তো দেখিনি। এরা তখন কোথায় ছিলো? আজকাল এসব লোকদের এতো বেশি ঔদ্ধত্য যে, সরকারি দলের লোকজনকে এরা আওয়ামী জামানার বিরোধীদলের মত ট্রিট করে।”


সমাপ্তিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই যুবনেতা বলেন, “হানজালাদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে ওরাই ক্ষমতায় আর বিএনপি বিরোধীদলে। বিএনপির দুর্ভাগ্য যে, এদের হজম করা লাগছে। political শূন্যতা ও সংকট না থাকলে আমি নিশ্চিত ঐ বিএনপি নেতা এমপি নামক অদ্ভুত প্রাণীটাকে কানের নীচে দুই পাঁচটা লাগিয়ে দিতো।”একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে সালিশের নামে প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক নেতাদের এমন পাল্টা আক্রমণাত্মক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মাদারীপুরসহ দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।