স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল
সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে ছয়টি পরামর্শ দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, যিনি চরমোনাই পীর হিসেবে পরিচিত।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব পরামর্শ তুলে ধরেন।
যে ছয় পরামর্শ
তাঁর পরামর্শগুলো হলো — জুলাই সনদ ও জুলাই গণভোট বাস্তবায়ন, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো, গণহারে দলীয়করণ না করা, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা এবং পাচার হওয়া টাকা উদ্ধারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা।
প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ফারাক
বিবৃতিতে চরমোনাই পীর বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও এই সরকার দেশের ৫৫ বছরের গতানুগতিক কোনো নির্বাচন বা সরকার নয়।
তাঁর ভাষ্য, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে রাষ্ট্রের পরতে পরতে জমা জঞ্জাল দূর করার আকাঙ্ক্ষা থেকে জন্ম নেওয়া একটি গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব নিয়ে এই সরকার গঠিত হয়েছে।
সেই রক্তস্নাত পটভূমি বিবেচনায় নিলে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে বিস্তর ফারাক দেখা যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কষ্টের বিষয় হলো, আশার আলো ক্রমেই ফিকে হয়ে যাচ্ছে।
‘ছয় মাস কমও নয়’
মূল্যায়নের সময়সীমা নিয়েও কথা বলেন তিনি।
চরমোনাই পীর বলেন, ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের পর দায়িত্ব নেওয়া সরকারের মূল্যায়নে ছয় মাস হয়তো যথেষ্ট নয়, তবে কমও নয়। সরকারের মেয়াদের এক-দশমাংশ সময় ইতিমধ্যে পার হয়ে গেছে।
তাঁর মতে, এই সময়ে সব ক্ষেত্রে সফলতা দেখা না গেলেও সূচনা ও পদ্ধতি দেখা যায়। সেই বিবেচনায় বিশেষ করে সংস্কার প্রশ্নে সরকারের অবস্থান জাতির মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে।
অধ্যাদেশ বাতিলের সমালোচনা
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোটকে কার্যত বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রকে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠা থেকে রক্ষার জন্য জারি করা অধ্যাদেশগুলোও বাতিল করা হয়েছে বলে তিনি জানান। বিকল্প হিসেবে যে নতুন আইন আনা হয়েছে, তাতে আগের সমস্যার সমাধান নেই বলেও তাঁর মন্তব্য।
তাঁর ভাষায়, এগুলো জুলাইয়ে মাঠে নেমে আসা অরাজনৈতিক ছাত্র-জনতার প্রত্যাশার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
জনপ্রত্যাশা উপেক্ষার পরিণতি ভালো হয় না বলেও সতর্ক করেন তিনি। তাঁর মতে, আজ হয়তো মানুষ মাঠে নামবে না, কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে।
প্রশংসাও করেছেন
সমালোচনার পাশাপাশি সরকারের কিছু উদ্যোগের প্রশংসাও করেছেন তিনি।
তাঁর ভাষ্য, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারের প্রচেষ্টা প্রশংসার যোগ্য। বিশেষ করে সরকারপ্রধানের দৃশ্যমান আচরণ ও ব্যতিব্যস্ততা ভালো কিছুর ইঙ্গিত দেয়। সরকারের অন্যদের কাছ থেকেও একই ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তাঁরা।
বিবৃতির শেষে তিনি জানান, তাঁরাও চান এই সরকার সফল হোক।
তথ্যসূত্র: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ