আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত নতুন সমঝোতা চুক্তির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ। তিনি চুক্তিটিকে “ইসরায়েল এবং সমগ্র মুক্ত বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর” বলে মন্তব্য করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে স্মোটরিচ বলেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা ইসরায়েলকে নিজ উদ্যোগেই চালিয়ে যেতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে তেহরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।
তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযান ইরানকে দুর্বল করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে এবং সেই অর্জনগুলোকে কোনোভাবেই অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়।
স্মোটরিচের ভাষায়, “যৌথ অভিযান ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনেছে। সেই অর্জনগুলো বৃথা যায়নি। কিন্তু ইরানের শাসনব্যবস্থার হুমকি মোকাবিলার কাজ এখনও শেষ হয়নি।”
এর আগে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও চুক্তির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আমরা এমন কোনো চুক্তির অংশীদার নই, যা আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না। এই সমঝোতা আমাদের জন্য বাধ্যতামূলকও নয়।”
ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন জোটের দুই প্রভাবশালী ডানপন্থী মন্ত্রীর এই বক্তব্য দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিদ্যমান মতপার্থক্যকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে এমন সময়ে এই প্রতিক্রিয়া এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটিকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার বড় পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলি সরকারের ভেতরেই ভিন্নমত স্পষ্ট হচ্ছে। একদিকে ওয়াশিংটন সংঘাত কমিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোতে চাইছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের কট্টরপন্থী অংশ ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান বজায় রাখার পক্ষে।
উল্লেখ্য, স্মোটরিচ ও বেন-গভিরের বিরুদ্ধে অতীতে ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে তারা এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা কার্যকর হওয়ার পথে শুধু আঞ্চলিক প্রতিপক্ষদের অবস্থানই নয়, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।