স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পালের একটি রিল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। চলতি বছর জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক উপলক্ষে সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা নির্বাচিত হন তিনি।
রোববার (২৬ জুলাই) রাতে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, তার নিজের কোনো ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট নেই এবং বিষয়টি তিনি সরাসরি জানেননি, ভিডিওটিও দেখেননি। তবে যারা তাকে জানিয়েছেন তাদের বরাতে তিনি বলেন, ভিডিওতে কোনো অশ্লীলতা না থাকলে শুধু গান গাওয়াকে তিনি অন্যায় মনে করেন না। একইসঙ্গে তিনি জানান, ভিডিও না দেখে এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।
বিউটি রানী পাল দীর্ঘদিন ধরে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিদ্যালয়ে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চা, নাচ-গানের মাধ্যমে পাঠ শেখানো ও বৃক্ষরোপণের ভিডিও প্রকাশ করে আসছিলেন। সম্প্রতি স্কুল ছুটির পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শাড়ি পরে একটি গানের সঙ্গে হাঁটার রিল ভিডিও তৈরি করেন, যা তার এক সহকর্মী ধারণ করেন। ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
শিক্ষিকার অভিযোগ, তার ব্যক্তিগত ফেসবুক থেকে অনুমতি ছাড়াই ভিডিওটি ডাউনলোড করে একটি স্থানীয় অনলাইন পেজ থেকে নেতিবাচক ক্যাপশনসহ প্রকাশ করা হয়, যার ফলে তাকে ব্যাপক সামাজিক হেনস্তার শিকার হতে হয়। চাপের মুখে তিনি নিজের ফেসবুক থেকে মূল ভিডিওটি সরিয়ে নেন।
ঘটনাটি একটি বৃহত্তর প্রশ্ন সামনে এনেছে— সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এমন ভিডিও ধারণ কতটা যৌক্তিক। একপক্ষের বক্তব্য, চাকরিজীবীদের নৈতিক, চারিত্রিক ও সামাজিক জীবনে নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা ও দায়িত্ব থাকে, তাই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ধরনের কনটেন্ট প্রশ্নবিদ্ধ। অন্যপক্ষের মত, স্কুল ছুটির পর ব্যক্তিগত বিনোদনমূলক কার্যকলাপে দোষের কিছু নেই, বিশেষত যখন এতে অশ্লীলতার কোনো উপাদান নেই। সমর্থকরা আরও বলছেন, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণেও গান-নাচ পরিবেশিত হয়, তাই এটিকে ভিন্নভাবে দেখার কারণ নেই।
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সুহেল মোল্লা জানান, সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নীতিমালা লঙ্ঘিত হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ঘটনার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকারা একই গানে নিজেদের রিলস তৈরি করে সংহতি প্রকাশ করছেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
'গান গাওয়া অন্যায় নয়' - শিক্ষিকার ভিডিও নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় ববি হাজ্জাজ
ছবি: ক্রাইম ক্রনিকল কোলাজ