আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল


যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে নতুন কাঠামোগত সমঝোতার ঘোষণা আসার পরও লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) লেবাননে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান বজায় রাখবে।

পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগে হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সমঝোতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের কথা উল্লেখ করা হলেও, ইসরায়েলি সরকারের অবস্থান ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে।

হিব্রু ভাষায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কাটজ বলেন, বিদ্যমান ও সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও লেবানন থেকে আইডিএফ প্রত্যাহারের বিরোধিতা করছে ইসরায়েল।

তার ভাষায়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, লেবানন, সিরিয়া এবং গাজায় নির্ধারিত “নিরাপত্তা অঞ্চলগুলোতে” ইসরায়েলি বাহিনী কোনো সময়সীমা ছাড়াই অবস্থান করবে।

কাটজ দাবি করেন, ইসরায়েলের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব এলাকায় থাকা “সব সন্ত্রাসী অবকাঠামো” ধ্বংস করা হবে। তিনি জানান, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকেও ইতোমধ্যে ইসরায়েলের অবস্থান জানানো হয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, লেবাননের ঘটনাপ্রবাহের জেরে যদি ইরান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো হামলা চালায়, তাহলে তার জবাব “পূর্ণ শক্তি” দিয়ে দেওয়া হবে।

“ইরান যদি লেবানন ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলে হামলা করে, আমরা সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে পাল্টা আঘাত হানব এবং দুই দেশের সামরিক সক্ষমতার পার্থক্য স্পষ্ট করে দেব,” বলেন তিনি।

এই বক্তব্য এমন সময় এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা এবং জি-৭ নেতাদের চলমান কূটনৈতিক আলোচনা অঞ্চলটিতে শান্তির সম্ভাবনা তৈরি করলেও, ইসরায়েলের নতুন অবস্থান সেই প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি এবং ইরানকে ঘিরে নতুন হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।