নিজস্ব প্রতিবেদক | ক্রাইম ক্রনিকল 


গতকাল শনিবার ২০ জুন গণ অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান এমপি হানজালাকে চিড়িয়াখানায় রাখার দাবি করেছিলেন তার ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে।

তার প্রতি উত্তরে এমপি হানজালা তার ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে লিখেন 


"রাশেদ খান আমাকে চিড়িয়াখানায় দেখতে নিতে চায়। আমি তো যাবই, তবে থাকব বাঘের সাথে বাঘ অন্তত নিজের পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্ত না! 

আর রাশেদ খানকে রেখে আসব ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের এক গরুর পাশে।দেখি দুজন মিলে কতক্ষণ গল্প করতে পারে!" 

তিনি আরো লিখেন " চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষকে শুধু একটা অনুরোধ—গরুটা যেন পরে নাম পরিবর্তনের আবেদন না করে" 


ইতিপূর্বে শিবচরে একটি সালিশী বৈঠকে এক বিএনপি কর্মীকে উদ্দেশ্য করে এমপি হানজালার টেবিল চাপড়ে “একেবারে খেয়ে ফেলব” বলে ধমক দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার সূত্র ধরেই ফেসবুক পোস্টে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান রাশেদ খান।


বিতর্কিত এই সংসদ সদস্যকে ‘অদ্ভুত প্রাণী’ আখ্যা দিয়ে তাকে খাঁচায় বন্দি করে চিড়িয়াখানায় রাখার প্রকাশ্য দাবি তুলেছেন তিনি।শনিবার (২০ জুন) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিস্ফোরক পোস্টে রাশেদ খান এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 


ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান লিখেছিলেন “এমপি হানজালারে চিড়িয়াখানায় রাখা হোক, যাতে চিড়িয়াখানার কাউন্টার থেকে সবাই এই অদ্ভুত প্রাণীটাকে টিকিট কেটে দেখতে পারে! আজকে একজন বিএনপি নেতার সঙ্গে তার যে আচরণ দেখলাম, সত্যিই লজ্জা লাগছে, এসব ম্যানারলেস লোকজন কীভাবে এমপি হলো?”এমপি হানজালার অতীত কর্মকাণ্ড ও ঔদ্ধত্যের সমালোচনা করে তিনি আরও লেখেন, “এর আগে বিএনপিকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলো ‘আমি হানজালা খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি এই দেশে থাকতে পারবে না’। আওয়ামী আমলে এদের এসব গর্জন তো দেখিনি। এরা তখন কোথায় ছিলো? আজকাল এসব লোকদের এতো বেশি ঔদ্ধত্য যে, সরকারি দলের লোকজনকে এরা আওয়ামী জামানার বিরোধীদলের মত ট্রিট করে।”


মাহমুদ নেওয়াজ নামের এক ফেসবুক এক্টিভিস্ট মন্তব্য করেছেন " বিপ্লোবোত্তর বাংলাদেশে যেখানে গঠন ও পূণর্গঠন নিয়ে উত্তোরত্তোর পলিসি ডিবেট হওয়ার কথা ছিল, সেখানে সংসদ সদস্য সদস্যরা হাস্যরস ছাড়া আর কিছুই করছে না। আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা একটা ভালো ও দক্ষ বিরোধীদল ও পাইনি" 


সংসদ সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের অবিবেচনাপ্রসূত কথা ও আচরণ রাজনীতিশুণ্যতা এবং খামখেয়ালি রাজনৈতিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত করছে বলে মন্তব্য করছেন বিশ্লেষকরা।