স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল

 

হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগে নোয়াখালী-৬ আসনের এনসিপি সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের এমপি পদ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের হয়েছে।

 

বুধবার (১৯ আগস্ট) হাতিয়া উপজেলার বাসিন্দা নাজমুল হোসেন এই রিট দায়ের করেন। বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চে এটি শুনানি হবে।

 

রিটকারীর আইনজীবীর বক্তব্য

রিটকারীর আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল সাংবাদিকদের বলেন, আবদুল হান্নান মাসউদ হলফনামা সম্পর্কে অবগত না হয়েই তাতে সই করে জমা দিয়েছেন — এটি তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন।

 

তাঁর ভাষ্য, এটি একটি জালিয়াতি এবং এই জালিয়াতির প্রশ্নেই উচ্চ আদালতে আসা হয়েছে। হলফনামা জালিয়াতির কারণে আসনটি কেন শূন্য ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে রুল চাওয়া হয়েছে।

 

রিটে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়েও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

 

পটভূমি: টকশোতে যা বলেছিলেন হান্নান মাসউদ

গত জুন মাসে একটি টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে হলফনামায় অসত্য তথ্য উল্লেখের বিষয়টি নিজেই স্বীকার করেছিলেন হান্নান মাসউদ।

 

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা ও আয়কর রিটার্ন দাখিলে সুবিধা হবে বলে আইনজীবীর পরামর্শেই হলফনামায় প্রকৃত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

 

এরপর থেকেই তাঁর এমপি পদ নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছিলেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি ছিল, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে ভোটের পরও নির্বাচন কমিশন তদন্ত করতে পারে, আর সত্যতা মিললে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হতে পারে।

 

রিট দায়েরের পর যা হবে

এই মুহূর্তে রিট দায়েরের ফলে হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাচ্ছে না। আদালতের চূড়ান্ত আদেশের পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

 

হান্নান মাসউদের পক্ষ থেকে এখনো এই রিট নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

 

তথ্যসূত্র: হাইকোর্ট, রিটকারীর আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল