স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল


সরকারি চাকরিতে নিয়োগ, প্রশাসন ও নির্বাচন ব্যবস্থায় দলীয়করণের অভিযোগ তুলে বিএনপির কঠোর সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেছেন, বর্তমানে চাকরির ক্ষেত্রে মেধা বা যোগ্যতার চেয়ে বিএনপির দলীয় পরিচয়ই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।


মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “চাকরি-বাকরিতে এখন আর ইন্টারভিউ আর মেধার দরকার নেই। বিএনপির একটা পোর্টফোলিও, ছাত্রদলের একটা পদ থাকলেই সেটাই এখন চাকরির যোগ্যতা।”


গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, অতীতে আওয়ামী লীগ যেভাবে প্রশাসন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করেছিল, বর্তমানে বিএনপিও একই পথে হাঁটছে। তাঁর ভাষায়, “আওয়ামী লীগ সব দলীয়করণ করল, সব ছাত্রলীগ বসাল। শুধু নামটা পাল্টেছে, চরিত্র একই রয়ে গেছে।”


তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে। “সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগান দিলেও বাস্তবে “সবার আগে বিএনপি” নীতিতে পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ধরনের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরকারকে সরে এসে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।


সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের চুক্তিতে সামসুল আলমের নিয়োগেরও সমালোচনা করেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, সামসুল আলম অতীতে বিএনপির সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস কমিটির সদস্য ছিলেন। এ কারণে নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে তাঁর নিয়োগ নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।


তিনি বলেন, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনের প্রশাসনিক কার্যক্রমে অতিরিক্ত সচিবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকায় রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে পারে। তাই তিনি সামসুল আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান।


সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম, হামিদুর রহমান আযাদ, আবদুল হালিমসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে বর্ণিত অভিযোগ ও মন্তব্যগুলো সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। এ বিষয়ে বিএনপি বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।