ঢাবি প্রতিনিধি | ক্রাইম ক্রনিকল 


গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য দেবতা শ্রীরামচন্দ্রের ছবি অবমাননার অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা। সোমবার সন্ধ্যায় ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।


বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে শিক্ষার্থীরা সেখানে কিছু সময় সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান। কর্মসূচিতে জগন্নাথ হলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।


মিছিল ও সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা, উগ্রবাদ প্রতিরোধ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।


সমাবেশে জগন্নাথ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সুদীপ্ত প্রামাণিক বলেন, নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই তার প্রতিফলন দেখা যায় না। তিনি গাইবান্ধার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান এবং তা না হলে আগামী শুক্রবার আরও বড় কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন।


জগন্নাথ হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) দ্বীপজয় সরকার বলেন, গত কয়েক বছরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনার বিচার হয়নি। তিনি এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।


সমাজসেবা সম্পাদক রাম প্রসাদ সাহা বলেন, শ্রীরামচন্দ্র সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম আরাধ্য দেবতা। তার ছবি অবমাননার মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে। যারা সমাজে বিভেদ ও অস্থিরতা তৈরি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


এ সময় শিক্ষার্থীরা গাইবান্ধায় নির্মাণাধীন রাম মূর্তির কাজ পুনরায় শুরু করার দাবিও জানান।


উল্লেখ্য, গত ১২ জুন গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় একটি মূর্তি নির্মাণের বিরোধিতায় আয়োজিত সমাবেশ চলাকালে কয়েকজন ব্যক্তি শ্রীরামচন্দ্রের ছবিতে জুতা নিক্ষেপ ও অবমাননাকর আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করেন।