স্টাফ রিপোর্টার। ক্রাইম ক্রনিকল
চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার পলোগ্রাউন্ড এলাকায় চুরির অভিযোগে এক যুবককে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত যুবকের নাম মো. জয়নাল (২৭)। আজ রোববার (২১ জুন) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মারধরের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রেলওয়ে পাবলিক হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের কক্ষের পেছনের জানালার গ্লাস খুলে গ্রিলের ফাঁক দিয়ে কম্পিউটার চুরির চেষ্টা করছিলেন জয়নাল। এমন অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ের দুই প্রহরী আজাদ ও সমীর দাশ তাকে হাতেনাতে আটক করেন বলে দাবি করেছেন।
আটকের পর জয়নালকে মারধর করা শুরু হয়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে আশপাশের লোকজনও জড়ো হয়ে তাকে পিটুনি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে স্কুলের মূল ফটকের সামনে ফেলে রাখা হয়। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে নিহতের স্বজনেরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তারা পুলিশের গাড়িতে মরদেহ তুলতে বাধা দেন এবং ঘটনার বিচার দাবি করেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের মা ছেনোয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার ছেলে দোষ করে থাকলে আইনের মাধ্যমে বিচার হতো। কিন্তু এভাবে তাকে মেরে ফেলার অধিকার কারও নেই।” তিনি দাবি করেন, মারধরের একপর্যায়ে তার ছেলেকে বৈদ্যুতিক শকও দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর বলেন, চুরির অভিযোগে আটক এক যুবককে মারধর করা হয়েছে এবং পরে তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে বিদ্যালয়ের দুই প্রহরী আজাদ ও সমীর দাশকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার এই ঘটনা নতুন করে গণপিটুনির প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।