নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম 


চট্টগ্রাম নগরীতে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি এলাকায় তিনটি শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার লোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে এক অভিযুক্ত আহত হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে পুলিশও অবরুদ্ধ থাকার ঘটনা ঘটেছে। পৃথক ঘটনায় ইতিমধ্যে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।


চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ হাজিপাড়ায় ৭ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উত্তেজিত জনতা ধাওয়া করে অভিযুক্ত যুবককে হাতেনাতে আটক করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে স্থানীয়দের তীব্র বাধার মুখে পড়ে। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরাও প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।


এদিকে এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে আরেকটি পাশবিকতার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে ৫ বছর বয়সী এক শিশুসহ মোট দুটি শিশুকে ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার ৫ বছরের শিশুটিকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। বায়েজিদের ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রতীকি ছবি। ছবি: সংগৃহীত।


এ বিষয়ে সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, শিশুদের ওপর এমন পাশবিকতার ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ডবলমুরিং ও বায়েজিদ—উভয় ঘটনাতেই মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আটককৃতদের কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


মাত্র এক দিনের ব্যবধানে নগরীর দুটি প্রধান এলাকায় কোমলমতি শিশুদের ওপর এমন উপর্যুপরি হামলার ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মনে তীব্র ক্ষোভ ও চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক ও দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।