নিজস্ব প্রতিবেদক | ক্রাইম ক্রনিকল 


হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত করোনারি স্টেন্ট বা হার্টের রিংয়ের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য সর্বনিম্ন ৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৪৮ হাজার টাকা পর্যন্ত কমিয়ে পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলমগীর হোসেনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে মোট ২৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের হার্টের রিংয়ের পূর্ববর্তী ও নতুন মূল্যের তালিকা প্রকাশ করা হয়। নতুন এই মূল্য তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে।


স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ও স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠিত বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির একাধিক সভার সুপারিশের ভিত্তিতে ট্যাক্স, ভ্যাট, বিভিন্ন চার্জ, কমিশন এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের যুক্তিসংগত মুনাফা বিবেচনায় নিয়ে এই মূল্য সংশোধন করা হয়েছে। গত বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে অনুষ্ঠিত পঞ্চম ও ষষ্ঠ সভার পাশাপাশি চলতি বছরের ১৩ মে অনুষ্ঠিত সপ্তম সভায় কিছু প্রতিষ্ঠানের মূল্য পুনর্বিবেচনার আবেদন পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।


নতুন তালিকায় অ্যালেক্স প্লাস ও আবারিস রিং ৬০ হাজার থেকে কমিয়ে ৫৭ হাজার, সেলোসিয়া কভার্ড স্টেন্ট ৮৫ হাজার ৪০০ থেকে ৬২ হাজার এবং সিলেনে ১ লাখ ৯ হাজার ৮০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৬২ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। নতুন তালিকায় সর্বনিম্ন ১৪ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৬৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের স্টেন্ট রয়েছে।


বাংলাদেশে ব্যবহৃত হার্টের রিং মূলত ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে আমদানি করা হয়। জার্মানি, পোল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও আয়ারল্যান্ডের পাশাপাশি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভারত থেকেও রিং আমদানি হয়।


মূল্য হ্রাসের পাশাপাশি কার্ডিয়াক হাসপাতালগুলোর জন্য বেশ কিছু বাধ্যবাধকতাও আরোপ করা হয়েছে। হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে মূল্য তালিকা প্রকাশ্যে প্রদর্শন, রিং কোনো চিকিৎসা প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত না করা, পৃথক ক্যাশমেমো প্রদান এবং ব্যবহৃত স্টেন্টের খালি প্যাকেট বাধ্যতামূলকভাবে রোগীর হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারাদেশের কার্ডিয়াক হাসপাতালে অনুমোদিত মূল্যে রিং সরবরাহ ও বিক্রয় হচ্ছে কি না তা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।


দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগীরা অভিযোগ করে আসছিলেন যে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা প্যাকেজের আড়ালে রিংয়ের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং রোগী ও তার পরিবার প্রকৃত মূল্য জানতে পারে না। সরকারের এই পদক্ষেপ হৃদরোগ চিকিৎসার ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে, তবে মনিটরিং কার্যক্রম কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে সেটাই এখন মূল প্রশ্ন।