স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল


সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচারের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ কোনো প্রতিবন্ধকতা নয় বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির।


রোববার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।


তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে বা দায়িত্ব পালনকালে কেউ কোনো ফৌজদারি অপরাধ করে থাকলে, দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিচার করা সম্পূর্ণ সম্ভব। এক্ষেত্রে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে কোনো বাধা নেই বলে তিনি স্পষ্ট করেন।


সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির জন্য দুই ধরনের সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে:


উপ-অনুচ্ছেদ ৫১(১) অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বা সেই বিবেচনায় কোনো কাজ করলে অথবা কোনো কাজ না করলে, তার জন্য কোনো আদালতে তাকে জবাবদিহি করতে হবে না। তবে এই সুরক্ষা সরকারের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার চাওয়ার অধিকারকে খর্ব করে না।


উপ-অনুচ্ছেদ ৫১(২) অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি যতদিন পদে বহাল থাকবেন, ততদিন তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের বা চালু রাখা যাবে না, এবং তার গ্রেপ্তার বা কারাবাসের জন্য কোনো পরোয়ানাও জারি করা যাবে না।


আইনজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই দুটি সুরক্ষাই মূলত রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থাকাকালীন সময়ের জন্য প্রযোজ্য। পদ ছাড়ার পর এই দায়মুক্তি আর কার্যকর থাকে না বলে অনেকে মনে করেন—যে যুক্তিতেই শিশির মনির বলেছেন, দায়িত্ব শেষে ফৌজদারি অপরাধের বিচারে ৫১ অনুচ্ছেদ কোনো বাধা তৈরি করে না।


২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী তার পাঁচ বছর মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল।


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। এরপর সংসদ বিলুপ্তি ও অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাহাবুদ্দিন। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি তার পদত্যাগ নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।


পদত্যাগের পর তার বিরুদ্ধে বিচারের দাবি জোরালো হয়ে ওঠায় সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ কতটা তাকে সুরক্ষা দেয়, তা নিয়ে আইনজ্ঞ মহলে আলোচনা চলছে। এ প্রসঙ্গেই নিজের মতামত জানালেন শিশির মনির।