পটুয়াখালী প্রতিনিধি | ক্রাইম ক্রনিকল
পটুয়াখালীতে ৭৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৫টি সেতু ও ৭টি সড়কের কাজ ২ মাস ধরে বন্ধ। কোথাও সেতু শেষ হলেও সংযোগ সড়ক নেই, কোথাও সড়কে শুধু খোয়া-বালু ফেলে কাজ ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে জনদুর্ভোগ চরমে।
এলজিইডি সূত্র জানায়, ২০২১-২২ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিডিআইআরডব্লিউএসপি, আইবিআরপি, ইউটিএমআইডিপি ও ইউএইচবিপি প্রকল্পের ২টি প্যাকেজের মূল ঠিকাদার ছিল সাবেক এমপি মহিউদ্দিন মহারাজের ইফতি-ইটিসিএল প্রাইভেট লিমিটেড। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি দেশত্যাগ করলে ১৩ আগস্ট তাঁর ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ হয়। এতে সাব-ঠিকাদারেরা বিল না পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। কয়েকজন সাব-ঠিকাদার আদালতে মামলাও করেছেন।
এলজিইডি পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হোসেন আলী মীর বলেন, চুক্তি বাতিলের জটিলতায় নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি মন্ত্রণালয় ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলে দ্রুত কাজ শেষ করা হবে।
নথি অনুযায়ী, সড়ক উন্নয়নের গড় অগ্রগতি ৫৬% আর সেতুর কাজ ৭% শেষ। কলাপাড়া, গলাচিপা, সদর ও রাঙ্গাবালীতে বেশ কয়েকটি সেতুর কাঠামো শতভাগ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুগুলো অব্যবহৃত পড়ে আছে। সড়কে খানাখন্দ ও জলাবদ্ধতায় মানুষের হাঁটাচলাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
মরিচবুনিয়ার বাসিন্দা আব্দুল জব্বার মৃধা বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই থেকে কাজ বন্ধ। সংযোগ সড়ক না থাকায় যানবাহন তো দূর, হেঁটেও চলা যায় না।”
৭৬ কোটি টাকার প্রকল্পগুলো কবে নাগাদ শেষ হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছে না এলজিইডি।