আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল

 

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্র একই সময়ে দুটি চুক্তি সই করেছেযেগুলো একে অপরের সঙ্গে মেলে না। একদিকে ইরানকে শান্ত রাখার চুক্তি, অন্যদিকে লেবাননে ইসরায়েলের হাত আরও শক্ত করে দেওয়ার চুক্তি। ইরানে যে প্রভাব ইসরায়েল হারিয়েছিল, তা এখন তারা ফিরে পেতে চাইছে লেবাননে গিয়ে। আর কাজে সবচেয়ে বড় সহায়তাটা এসেছে খোদ লেবানন সরকারের কাছ থেকেই।


দুই চুক্তি, দুই ভাষ্য


প্রথম চুক্তিটি সই হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে। এতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান তারা "অবিলম্বে স্থায়ীভাবে" বন্ধ করবে। কথাটা বাস্তবায়িত হলে ইরান আর লেবাননের মধ্যে একধরনের সংযোগ স্বীকার করে নেওয়া হয়।


কিন্তু ঠিক পরদিনই শুক্রবার ওয়াশিংটনে লেবানন, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা মিলে সই করেন দ্বিতীয় একটি "কাঠামো চুক্তি" এই চুক্তি প্রথমটিকে অনেকটাই অর্থহীন করে দেয়। কারণ, দক্ষিণ লেবাননের বড় অংশ দখলে রাখা ইসরায়েলি বাহিনীকে সেখানে থেকে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য।


প্রথম চুক্তিতে ইরানের সার্বভৌমত্ব সম্মান করার কথা বলা হলেওএমনকি হরমুজ প্রণালিও এর আওতায় রাখা হয়েছেদ্বিতীয় চুক্তিতে লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষার কোনো নিশ্চয়তা নেই। উল্টো ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণে একটি "সামরিক সমন্বয় গোষ্ঠী" তৈরি করে লেবাননের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ানো হয়েছে।


চুক্তির শর্ত অনুযায়ী লেবাননের সেনাবাহিনীকে বাধ্য করা হচ্ছে একটি অভিজ্ঞ সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করতেঅথচ লেবাননের অনেকেই এই গোষ্ঠীকে ইসরায়েলি হামলা ঠেকানোর একমাত্র ভরসা মনে করেন। আরও বড় কথা, চুক্তির ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী লেবানন সরকার আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার অধিকারও ছেড়ে দিচ্ছে। বিনিময়ে ইসরায়েলি সেনা জেনারেলদের যুদ্ধাপরাধ থেকে দায়মুক্তি দিতে হচ্ছে তাদের।


গৃহযুদ্ধের শঙ্কা বৈরুতে


২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে লেবাননে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন দশ লাখেরও বেশি মানুষ। নিহতের সংখ্যা অন্তত আট হাজার। ইসরায়েলি হামলায় বহুবার লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন সাধারণ মানুষ, এমনকি সাংবাদিক স্বাস্থ্যকর্মীরাও।


লেবাননের সংসদ সদস্য আন্তর্জাতিক আইনবিশেষজ্ঞ হালিমা কাকুর বলছেন, চুক্তির এই ধারা আসলে লেবানন সরকারের একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেরই প্রতিফলনইসরায়েলি প্রত্যাহারের বিনিময়ে আন্তর্জাতিক ফোরামে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত। অথচ তাঁর মতে প্রত্যাহার তো এমনিতেই লেবাননের অধিকার, এর জন্য কিছু বিনিময় করার প্রশ্নই ওঠে না।


চুক্তি সই হওয়ার পর বৈরুতের রাস্তায় নেমে আসে তীব্র ক্ষোভ। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালামকে পার্লামেন্ট স্পিকার নবিহ বেরিকে ধন্যবাদ জানাতে হয় পরিস্থিতি শান্ত রাখায় ভূমিকা রাখার জন্য। বেরি নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন, সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধ ঠেকাতে তিনি এই চুক্তি পাস হতে দেবেন না। লেবাননের অতীত ইতিহাস মাথায় রাখলে এই হুঁশিয়ারিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।


বেরির ভাষায়, যারা এই চুক্তির নকশা করেছে তারা দেশে কলহ বাধাতে চায়, যদিও হিজবুল্লাহও ভেতরে ভেতরে পরিস্থিতি ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন প্রশাসনের ভেতরের এই টানাপোড়েনের মাশুল গুনতে হতে পারে পুরো অঞ্চলকেই।


এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই চুক্তিতে বেশ খুশি। লিতানি নদীর পাশের যে দুটি এলাকা থেকে ইসরায়েল সরে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলোকে তিনি গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। চুক্তিটিকে ইরানের জন্য "বড় ধাক্কা" আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, ইরান জোর করে ইসরায়েলকে দক্ষিণ লেবানন থেকে সরাতে চাইছিল, কিন্তু এখন ইসরায়েল-লেবানন-যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে বার্তা দিচ্ছে যে এতে ইরানের কোনো ভূমিকা নেই।


ওয়াশিংটনে ভেতরের টানাপোড়েন


এই দুই ভিন্ন চুক্তির পেছনে আছে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরকার দুই বিপরীত ধারার চিন্তাভাবনা। ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি মূলত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের চিন্তার প্রতিফলন। ইরানে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে চালানো মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলা যে ব্যর্থ হয়েছে, তাতে ভ্যান্সের অবস্থানই যেন সঠিক প্রমাণিত হলো। শুরু থেকেই তিনি এই যৌথ হামলার বিরোধী ছিলেনএমনকি ফেব্রুয়ারিতে নেতানিয়াহু তৎকালীন মোসাদপ্রধান ডেভিড বার্নেয়ার ব্রিফিংয়ের পর ট্রাম্প যখন যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত নেন, সেই বৈঠকেও তাঁর অনুপস্থিতি নজর কেড়েছিল।


অন্যদিকে লেবানন-ইসরায়েল কাঠামো চুক্তির মূল কারিগর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তাঁর বিশ্বাস, হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার ফল নয়, বরং শান্তির পূর্বশর্ত হওয়া উচিতআর ইসরায়েলকেই থাকতে হবে অঞ্চলের একচ্ছত্র প্রধান শক্তি হিসেবে।


ভ্যান্স অবশ্য মনে করেন, ইরানে বোমা হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি অনেকবিশেষ করে বাহরাইনের একটি বড় নৌঘাঁটিসহ অঞ্চলের ২০টি মার্কিন স্থাপনায় ইরানি হামলার ক্ষতি এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফের ভরাট করতে যে সময় লাগবে, তা মাথায় রেখে। রুবিও অবশ্য এখনো মনে করেন হিজবুল্লাহ লেবাননের নিজস্ব কোনো শক্তি নয়, স্রেফ ইরানের হাতিয়ার মাত্র।


তুরস্ক এখন ইসরায়েলের নতুন 'অস্তিত্ব সংকট'


ইরান-যুদ্ধ ইসরায়েলের আঞ্চলিক পরিকল্পনায় বড় একটা ধাক্কা হলেও, তেহরানে সরকার বদলালেও যে যুদ্ধ থামত নাতার প্রমাণ মিলছে এখনই। কারণ, ইসরায়েলি রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সরে গেছে তুরস্কের দিকে। একযোগে অনেক ইসরায়েলি রাজনীতিক সতর্কবার্তা দিচ্ছেন তুরস্ক, সিরিয়া কাতারকে ঘিরে গড়ে ওঠা এক নতুন "সুন্নি অক্ষ" নিয়ে।


ট্রাম্পের কিন্তু এই কথায় মন ভরেনি। নেতানিয়াহু যখন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানকে "ইহুদিবিদ্বেষী স্বৈরশাসক" এবং কুর্দিদের বিরুদ্ধে "গণহত্যাকারী" বলে দাবি করেন, ট্রাম্প তা সরাসরি হেসে উড়িয়ে দেন। তাঁর ভাষায়, এরদোয়ান একজন মহান নেতা, অত্যন্ত দৃঢ়চেতা মানুষ, আর তিনি যা চেয়েছেন তা- এরদোয়ান করেছেন।


নেতানিয়াহু ইসরায়েলের নতুন নিরাপত্তা নীতিকে "আগে হত্যা করো" নীতি বলে অভিহিত করার পর ভ্যান্স আরও স্পষ্ট ভাষায় জবাব দেন। নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার দুই কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রীকে লক্ষ্য করে বললেও বার্তাটি আসলে ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রতিইনয় কোটি মানুষের একটা দেশ শুধু হত্যা করে প্রতিটি নিরাপত্তা সমস্যা সমাধান করতে পারে না।


মাঠ প্রস্তুত হচ্ছে অনেক দিন ধরেই


ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল যতটা গুরুত্ব দিয়েছিল, তুরস্কের ব্যাপারেও ঠিক ততটাই সিরিয়াস তারা। প্রথমত, তুরস্কবিরোধী এই সুর ইসরায়েলের রাজনীতিতে দলমত নির্বিশেষে। নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য উত্তরসূরি নাফতালি বেনেট বলেছেন, সিরিয়ায় তুরস্ক কাতারের প্রভাব বাড়ছে, তারা অঞ্চলজুড়ে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছেতাঁর ভাষায়, তুরস্কই এখন "নতুন ইরান" প্রবাসীবিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই চিকলিও একই সুরে বলেছেন, ইরানের "শিয়াপন্থী সাম্রাজ্যের" দিন শেষ, তার জায়গায় আসছে এরদোয়ানের তুরস্ক, সিরিয়া কাতারকে ঘিরে গড়ে ওঠা "মুসলিম ব্রাদারহুড অক্ষ"


দ্বিতীয়ত, এই কৌশলের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল আরও অনেক আগে২০২৪ সালের নভেম্বরে, বাশার আল-আসাদের পতনের মাসখানেক আগে। তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সাআর বলেছিলেন, ইসরায়েলের উচিত কুর্দি দ্রুজদের মতো "স্বাভাবিক মিত্রদের" কাছে হাত বাড়ানো। আসাদের পতনের পর ইসরায়েল সিরিয়ার নৌ বিমানবাহিনী গুঁড়িয়ে দেয়, দখল করে নেয় দক্ষিণ সিরিয়ার গাজার চেয়েও বড় একটি এলাকা। তেল আবিব প্রকাশ্যেই চাইছে সিরিয়া যেন সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে ভাগ হয়ে যায়। নেতানিয়াহু লেবানন, সিরিয়া গাজায় দখলকৃত এলাকাগুলোকে বলছেন "নিরাপত্তাবেষ্টনী", সেখান থেকে সরে আসার কোনো ইচ্ছাই তাঁর নেই।


দামেস্কে প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারার সরকারের কর্তৃত্ব সীমিত করা এবং তুরস্কের সঙ্গে নতুন সিরিয়ার সম্পর্কে ফাটল ধরানোএসবই এই পদক্ষেপগুলোর লক্ষ্য। একই সঙ্গে ইসরায়েল গ্রিস-তুরস্ক উত্তেজনাও উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে সাইপ্রাস পূর্ব ভূমধ্যসাগর ঘিরেসাইপ্রাসকে বারাক এমএক্স আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে, পাফোসের একটি বিমানঘাঁটিতে বিশেষ মর্যাদা পেয়ে। বিনিময়ে সাইপ্রাস নাকি ভাবছে ভারতীয় সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ড্রোন কেনার কথা। এসবের একটাই লক্ষ্যতুরস্কের ক্রমবর্ধমান নৌশক্তিকে চ্যালেঞ্জ করা।


ইসরায়েলি সংবাদপত্র মারিভের একটি সাম্প্রতিক নিবন্ধ বলছে, ইসরায়েলের কৌশলগত মহলে তুরস্ককে এখন ইরানের চেয়েও বড় দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ মনে করা হচ্ছেশুধু তুরস্কের বিমানবাহী রণতরি বা ড্রোন-রাডার সক্ষমতার কারণে নয়, বরং পূর্ব ভূমধ্যসাগর, ককেশাস, আফ্রিকা, বলকান মধ্যপ্রাচ্যে আঙ্কারার ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক-সামরিক উপস্থিতির কারণেও। আরেক ইসরায়েলি মন্ত্রী গিলা গামলিয়েল তো সরাসরিই বলেছেন, ইসরায়েল এখন "অটোমান সাম্রাজ্য" মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।


আঙ্কারার সুর বদলাচ্ছে


তুরস্কের প্রতিক্রিয়া এখনো পর্যন্ত বেশ সতর্ক, অনেকের মতে প্রয়োজনের চেয়েও বেশি সতর্ক। এরদোয়ানের গরম বক্তব্যের বাইরে বাস্তবে দেখা গেছেইসরায়েল যখন সিরিয়ায় হামা তিয়াস বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যেখানে তুরস্কেরও মোতায়েনের পরিকল্পনা ছিল, তখন দুই দেশ সংঘাত এড়াতে একটি সমন্বয় লাইন নিয়ে আলোচনায় বসেছিল।


গাজার ওপর হামলা চলাকালেও তুরস্ক তার সেইহান বন্দর দিয়ে আজারবাইজানের তেল ইসরায়েলে সরবরাহ অব্যাহত রেখেছিলসম্ভবত ট্রাম্প এরদোয়ানকে যেসব বিষয়ে সহযোগিতার অনুরোধ করেছিলেন, এটি তার একটি। "স্টপ ফুয়েলিং জেনোসাইড" নামের একটি প্রচারাভিযানের কর্মীদের সংগৃহীত তথ্য বলছে, বাণিজ্য অবরোধ ঘোষণার পরও ২০২৪ সালে অন্তত আট বার একটি ট্যাংকার সেইহান বন্দর থেকে অ্যাশকেলনের কাছের একটি পাইপলাইনে তেল সরবরাহ করেছে।


তুরস্কের কর্মকর্তারা অবশ্য নেতানিয়াহুর এসব কড়া কথাকে নিছক দেশের ভেতরের রাজনীতির খেলা হিসেবেই দেখতেন। তাঁরা বরং জোর দিতেন তুর্কি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হটলাইন থাকার কথায়, সিরিয়ায় সরাসরি সংঘাত এড়ানোর ব্যাপারে তুর্কি জেনারেলদের অবস্থানের কথায়, আর দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার নিয়মিত যোগাযোগের কথায়।


মিডল ইস্ট আইকে বিষয়টি জানা একটি সূত্র বলেছে, ২০২২ সালেহাকান ফিদান গোয়েন্দাপ্রধান থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার আগের বছরতুর্কি গোয়েন্দা সংস্থা তুরস্ক ককেশাসে ইহুদি লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ইরানি গোয়েন্দা বিভাগের তিনটি শাখার পরিকল্পিত অন্তত দশটি হত্যা পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছিল।


২০২৪ সালের স্থানীয় নির্বাচনে গাজা ইস্যুতে নিষ্ক্রিয়তার মাশুল দিতে হয় এরদোয়ানের একে পার্টিকেবড় ধাক্কা খায় তারা। এরপর থেকেই তুরস্কের এই নমনীয় নীতিতে বদল আসে, যদিও নেওয়া পদক্ষেপগুলো মূলত ছিল কূটনৈতিক প্রকৃতির, আর সিরিয়া প্রশ্নে ট্রাম্প তাঁর দূত টম ব্যারাককে পাশে রাখার লক্ষ্যেই পরিচালিত।


আজ পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। আঙ্কারা এখন বুঝতে পারছে, ইসরায়েল যা বলছে তা বাস্তবেই বিশ্বাস করে। তাই তুরস্ক এখন নৌ, বিমান ড্রোনশক্তিসব দিক থেকেই নিজের প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোয় মন দিয়েছে। ট্রাম্প এখন তুরস্ককে দিচ্ছেন নতুন প্রজন্মের 'কান' স্টিলথ যুদ্ধবিমান বানানোর ইঞ্জিন, আর আঙ্কারা দ্রুতগতিতে বানাচ্ছে ৬০ হাজার টনের একটি বিমানবাহী রণতরি আরও ৩০টি যুদ্ধজাহাজ। সম্প্রতি মিসরীয় নৌবাহিনীর সঙ্গে একটি যৌথ মহড়াও সেরে ফেলেছে তারা।


তবু তুরস্ক এখনো মূলত সময় নিচ্ছে। তুর্কি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা, ইসরায়েলের বিমানবাহিনীর মোকাবিলায় নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে পুরোপুরি প্রস্তুত করতে আরও তিন থেকে পাঁচ বছর লাগবে তাদের।


গাজা সংকটে তুরস্কের মূল কৌশলগত জবাব ছিল সৌদি আরব পাকিস্তানের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা জোট গড়ে তোলাএই দুই দেশই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে মধ্যস্থতার ভূমিকা রেখেছিল। ইসরায়েল ঠিক এই জোটকেই সবচেয়ে বেশি ভয় পায়, আর এখন সেটি ভেঙে দেওয়ার চেষ্টায় লেগে আছে।


উপসাগরীয় অঞ্চলে যা- ঘটুক না কেন, ইসরায়েল আর এই অঞ্চলের মূল লড়াইয়ের মাঠটা তৈরি হবে লেবানন সিরিয়ায়। পুরো পরিস্থিতি থেকে একটাই শিক্ষা মেলেইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী যখন মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা বদলে দেওয়ার কথা বলেন, তখন তিনি তা সত্যিই বোঝান। এই প্রবণতা ঠেকাতে দরকার বাস্তব শক্তি দৃঢ় কূটনীতি। আরব দেশগুলো যত বেশি দেরি করবে বা কেবল ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর ভরসা করে বসে থাকবে, ইসরায়েল যখন "আগে আঘাত হানবে," তখন তাদের জন্য ধাক্কাটা তত বড় হবে।


মিডল ইস্ট আইয়ের একটি ইংরেজি বিশ্লেষণী নিবন্ধ অবলম্বনে, নিজস্ব ভাষায় পুনর্লিখিত।