স্পোর্টস ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ঠিক আগে নিজেদের প্রস্তুতি ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে ফুটবলের দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। দলের দুই মহাতারকা নেইমার ও লিওনেল মেসি মাঠে না থাকলেও জয়ের ধারায় কোনো ছেদ পড়েনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আফ্রিকান প্রতিনিধি মিসরকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল। কার্লো আনচেলত্তির দলের হয়ে গোল করেন ব্রুনো গিমারেস ও এন্দ্রিক।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই প্রতিপক্ষের বক্সের সামনে বল কেড়ে নিয়ে নিখুঁত শটে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন ব্রুনো গিমারেস। তবে তিন মিনিট পরই মারকিনিয়োসের ভুল পাস থেকে সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমতায় ফেরায় মিসর। গোল করেন জিকো।
প্রথমার্ধ ১-১ সমতায় শেষ হলেও দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এন্দ্রিক। রাফিনিয়ার পাস থেকে দারুণ ফিনিশে জয়সূচক গোল করেন তিনি। ২০২৪ সালের পর ব্রাজিলের জার্সিতে এটি তার প্রথম গোল। দীর্ঘ সময় গোলখরায় থাকা এই তরুণ ফরোয়ার্ড বিশ্বকাপের আগে আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন।

তবে জয়ের আনন্দের মাঝেও দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে ব্রাজিল শিবিরে। ম্যাচের মাত্র ১৫ মিনিট খেলেই বাঁ কুঁচকির চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ডানপ্রান্তের ডিফেন্ডার ওয়েসলিকে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়া ২২ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে নিয়ে এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। চোটের কারণে বিশ্বকাপ মিস করার শঙ্কায় ডাগআউটে বসেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
প্রস্তুতি পর্বে এর আগে পানামাকে ৬-২ গোলে হারিয়েছিল ব্রাজিল। আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। একই গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড ও হাইতি।
অন্যদিকে টেক্সাসের কাইল ফিল্ড স্টেডিয়ামে হন্ডুরাসকে ২-০ গোলে হারিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ছোটখাটো শারীরিক অস্বস্তির কারণে এই ম্যাচে খেলেননি অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে মেসিকে ছাড়াই মাঠে আধিপত্য দেখিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল।
প্রথমার্ধের ৩৭ মিনিটে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর ওপর ফাউলের কারণে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন লাওতারো মার্তিনেজ। দেশের হয়ে এটি ছিল ইন্টার মিলানের এই স্ট্রাইকারের ৩৭তম আন্তর্জাতিক গোল।

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪ মিনিটে লাওতারোর দুর্দান্ত ব্যাকহিল পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জুলিয়ানো সিমিওনে। আতলেতিকো মাদ্রিদের এই তরুণ ফুটবলার কাছের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়িয়ে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন।
এক গোল ও এক অ্যাসিস্ট করে ম্যাচের অন্যতম সেরা পারফরমার ছিলেন লাওতারো মার্তিনেজ। পাশাপাশি জিওভান্নি লো সেলসো, থিয়াগো আলমাদা ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজও নিজেদের সামর্থ্যের ঝলক দেখিয়েছেন।
বিশ্বকাপের আগে আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। আগামী ৯ জুন আইসল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা। এরপর ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করবে আলবিসেলেস্তেরা।
বিশ্বকাপের আগে দুই দলের সর্বশেষ পারফরম্যান্সে স্পষ্ট হয়েছে, শুধু তারকানির্ভর নয়, শক্তিশালী স্কোয়াড গভীরতাও ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার বড় অস্ত্র। মেসি ও নেইমারের অনুপস্থিতিতেও জয় তুলে নিয়ে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলই বিশ্বকাপ মঞ্চে নিজেদের প্রস্তুতির শক্ত বার্তা দিয়েছে।