আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল


কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় হোটেলে আগুনে নিহত জনের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

 

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

যাঁদের পরিচয় মিলেছে

শনাক্ত হওয়া পাঁচজনের মধ্যে চারজনই একই পরিবারের সদস্য এবং কুষ্টিয়ার বাসিন্দা। তাঁরা হলেন দেবাশিস দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শিম্মিন, তাঁদের তিন বছর বয়সী ছেলে শর্ণশিষ দত্ত এবং মো. আকরাম আলি।

 

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ত্রী আফসানার চিকিৎসার জন্য গত আগস্ট বেঙ্গালুরু যান দেবাশিস দত্ত। সেখানে চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তাঁরা কলকাতায় আসেন এবং দেশে ফেরার আগে ধর্মতলার ওই হোটেলে ওঠেন। সেই রাতেই অগ্নিকাণ্ডে সবাই প্রাণ হারান।

 

পঞ্চম বাংলাদেশি নিহত ব্যক্তি আহমেদ বাবু, যাঁর বাড়ি ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকায়।

 

নিহত একজন ভারতীয় নাগরিকেরও পরিচয় মিলেছেঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার বাসিন্দা সন্দীপ পাসওয়ানে। বাকি তিনজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন।

 

সংখ্যা নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছিল

ঘটনার পরপরই নিহতদের জাতীয়তা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য আসছিল। প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের বরাতে বলা হয়েছিল নিহত জনের সবাই বাংলাদেশি।

 

পরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সংশোধিত তথ্যে বলা হয়, জনের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি একজন ভারতীয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র প্রাথমিকভাবে একই তথ্য জানিয়েছিলেন।

 

সবশেষে স্থানীয় পুলিশ উপহাইকমিশনের নিশ্চিতকরণ অনুযায়ী, পাঁচজন বাংলাদেশি, একজন ভারতীয় এবং বাকি তিনজনের পরিচয় এখনো অজানা।

 

তদন্তে যা উঠে এলো

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হোটেলটিতে ন্যূনতম অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না।

 

ঘটনায় কলকাতা পুলিশ একটি মামলা করেছে। হোটেলের মালিক কর্মীরা পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

উদ্ধার অভিযানে হোটেল থেকে প্রায় ৬০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। আহত ছয়জন বাংলাদেশিকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

 

সহায়তার উদ্যোগ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফেরত আনা হবে। পরিবার চাইলে এর খরচ বহনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে।

 

কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন একটি সার্বক্ষণিক হেল্পলাইনও চালু করেছে।

 

ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তিন মন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেনপৌর নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্প বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায় এবং মন্ত্রিসভার সদস্য পূর্ণিমা চক্রবর্তী।

 

উল্লেখ্য, এর দুদিন আগে ১৭ আগস্ট বীরভূম জেলার তারাপীঠের একটি হোটেলে আগুনে আটজন নিহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর এলাকার ১৫টি হোটেলের লাইসেন্স বাতিল করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন, এনডিটিভি, আনন্দবাজার