আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
পাকিস্তানের জনপ্রিয় টিকটক তারকা শামসু বিবি হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ইসলামাবাদের কাছে ট্যাক্সিলা শহরে গত ১৪ আগস্ট, পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে গুলিতে নিহত হন ২৮ বছর বয়সী এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর। অনলাইনে তিনি ‘আয়েশা গিলামানা’ নামে পরিচিত ছিলেন, আর তাঁর টিকটক অনুসারীর সংখ্যা ছিল ১৩ লাখের বেশি।
গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে দুজন মূল বন্দুকধারীকে গ্রেপ্তার এড়াতে সহায়তা করেছিলেন বলে অভিযোগ।
যেভাবে ঘটেছিল হামলা
বাবা ফজল সাহেবজাদার দায়ের করা মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১৪ আগস্ট সন্ধ্যায় কাশিফ নামের এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে দ্রুত বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান শামসু বিবি।
সঙ্গে ছিলেন তাঁর ১৫ বছর বয়সী বোন আসমিয়া এবং ভাই নিয়ামাতুল্লাহ, যিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন। জিটি রোডে একটি পেট্রোল পাম্পের কাছে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি তাঁদের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
গুলি শামসু বিবির ঘাড়ে লাগে, ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। গুলির পর গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি একটি ডাম্প ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খায়, যাতে গুরুতর আহত হন আসমিয়া।
বাবা ফজল সাহেবজাদা তক্ষশীলার একটি হাসপাতালে গিয়ে মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন।
সিসিটিভি ও তদন্ত
সিসিটিভি ফুটেজে ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী দুই ব্যক্তিকে মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। এই ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে পুলিশ।
এজাহারে আর্থিক বিরোধের প্রসঙ্গও রয়েছে। বাবার অভিযোগ অনুযায়ী, কাউসার ও জাভেদ ওরফে শাহিন নামের দুই ব্যক্তির সঙ্গে অর্থ সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল শামসু বিবির।
তাঁর দাবি, ঋণ পরিশোধের দাবিতে আগে থেকেই মেয়েকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল এবং এ বিষয়ে ইসলামাবাদে অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল।
নারী কনটেন্ট নির্মাতাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
এই হত্যাকাণ্ড পাকিস্তানে নারী সামাজিক মাধ্যম তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এমন একাধিক ঘটনা ঘটেছে। গত জুনে ১৭ বছর বয়সী টিকটক তারকা সানা ইউসুফকে ইসলামাবাদে নিজ বাড়িতে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল, বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার জেরে। ওই মামলায় অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
জুলাইয়ে রাওয়ালপিন্ডিতে টিকটক অ্যাকাউন্ট মুছতে অস্বীকার করায় নিজের মেয়েকে গুলি করে হত্যা করেন এক বাবা। সম্প্রতি সিন্ধু প্রদেশে আরেক নারী টিকটকার সুমিরা রাজপুতকে বিষ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগও উঠেছে।
শামসু বিবির ভাই নিয়ামাতুল্লাহ পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরীফের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তথ্যসূত্র: তক্ষশীলা পুলিশ, ফজল সাহেবজাদার এজাহার, এআরওয়াই নিউজ, আরব নিউজ