অর্থনীতি ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল


রাষ্ট্রায়ত্ত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নতুন নিয়োগ দিয়েছে সরকার। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কাজি শায়রুল হাসান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আবেদুর রহমান সিকদার।


সোমবার (৮ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।


প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে আগামী তিন বছরের জন্য কাজি শায়রুল হাসানকে চেয়ারম্যান এবং আবেদুর রহমান সিকদারকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


এর আগে আবেদুর রহমান সিকদার ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি-এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।


আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে পাঠানো চিঠিতে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নিয়োগ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।


এই নিয়োগের মাধ্যমে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ দুই পদে নতুন নেতৃত্ব নিশ্চিত হলো। সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলেও যোগদানের পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি সনদ (এনওসি) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।


অর্থনৈতিক সংকটে পড়া শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ বেসরকারি ব্যাংক – এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে 'সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক' গঠন করা হয়।


পরবর্তীতে, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন এই ব্যাংকের চূড়ান্ত লাইসেন্স অনুমোদন করে এবং সাবেক সচিব মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়াকে এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ব্যাংকটির এমডি পদে একজনের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হলেও পরবর্তীতে তিনি দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান।


রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠন করলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন মোস্তাকুর রহমান। এর পরপরই, গত ১৬ মার্চ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন সাবেক সচিব মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া।


চেয়ারম্যানের পদত্যাগ এবং এমডি পদে মনোনীত প্রার্থীর যোগদানে অস্বীকৃতির পর থেকে কোনো চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছাড়াই জোড়াতালি দিয়ে চলছিল ব্যাংকটির নীতিগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।