আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাম্বোয়াঙ্গা শহরের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল ক্যাম্পাসে গুলির ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দুজন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে আতেনেও দে জাম্বোয়াঙ্গা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটনাটি ঘটে। শহরটি রাজধানী ম্যানিলা থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দক্ষিণে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারী একজন শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেন।
শতাধিক শিক্ষার্থীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। স্কুল ভবনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস থেকে আলাদা একটি সুরক্ষিত ক্যাম্পাসে অবস্থিত।
যা জানিয়েছে পুলিশ
আঞ্চলিক পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বয়স সাধারণত ১৪ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে থাকে। তিনি একটি পিস্তল ও একটি রাইফেল নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন এবং একটি শ্রেণিকক্ষে গুলি চালান।
পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তদন্তের অন্যতম প্রধান বিষয় হবে — সন্দেহভাজন ব্যক্তি কীভাবে অস্ত্রগুলো স্কুলের ভেতরে নিয়ে এলেন। তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ঘটনার উদ্দেশ্য এখনো শনাক্ত করা যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জাম্বোয়াঙ্গা শহরের মেয়র খাইমার ওলাসো স্থানীয় বেতারমাধ্যমকে জানান, হামলাকারী প্রথমে টেবিলে বসে থাকা এক শিক্ষককে লক্ষ্য করে গুলি চালান। লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পর তিনি অন্য একটি কক্ষে গিয়ে এক শিক্ষার্থীকে গুলি করেন।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানায় পুলিশ। অভিভাবকদের শান্ত থেকে স্কুলের নির্দেশনা অনুসরণ করার অনুরোধ জানানো হয়।
ভিডিও নিয়ে সতর্কতা
ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরে হামলাকারীর ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়।
ফিলিপাইনের পুলিশপ্রধান হোসে মেলেনসিও নার্তাতেস জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, অনিশ্চিত প্রতিবেদন, ছবি বা ভিডিও যেন কেউ না ছড়ান। এতে অহেতুক উদ্বেগ তৈরি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
যাচাই করা তথ্য যথাসময়ে জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
মহড়া হয়েছিল গত মাসেই
ঘটনার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকটি হলো এর সময়কাল।
গত মাসে আতেনেও দে জাম্বোয়াঙ্গা ক্যাম্পাসে সক্রিয় বন্দুকধারী মোকাবিলার মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দেশজুড়ে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমন মহড়া চালিয়েছে, এটি তার একটি।
পুলিশের মুখপাত্র বলেন, স্কুলগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা যে জোরদার করা হয়েছে, তা সবারই জানা। তারপরও অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ ঠেকানো যায়নি।
দুই মাসে দ্বিতীয় ঘটনা
ফিলিপাইনে স্কুলে গুলির ঘটনা বিরল। দেশটিতে আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। তবে অবৈধ অস্ত্রের একটি বড় কালোবাজার রয়ে গেছে।
গত জুনে পূর্বাঞ্চলীয় তাকলোবান শহরের একটি বিদ্যালয়ে গুলির ঘটনায় তিন শিক্ষার্থী নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছিলেন।
তথ্যসূত্র: ফিলিপাইন জাতীয় পুলিশ, আঞ্চলিক পুলিশ, জাম্বোয়াঙ্গা সিটি করপোরেশন