আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি জেটচালিত একটি আত্মঘাতী ড্রোনের সফল উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে ভারত।
‘দিব্যাস্ত্র এমকে-৩’ নামের এই অস্ত্রব্যবস্থার প্রথম উড্ডয়ন হয় গত ১১ আগস্ট, উত্তরপ্রদেশের একটি পরীক্ষামূলক রানওয়েতে। তবে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় ১৬ আগস্ট।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এটি ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিওর প্রকল্প নয়। লক্ষ্ণৌভিত্তিক বেসরকারি প্রতিরক্ষা স্টার্টআপ কাওয়া ইউএভি প্রাইভেট লিমিটেড (হোভারইট) এটি তৈরি করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির সদর দপ্তর উত্তরপ্রদেশ প্রতিরক্ষা শিল্প করিডরে।
যে অস্ত্র এটি
দিব্যাস্ত্র এমকে-৩ প্রচলিত অর্থে নজরদারি ড্রোন নয়। এটি একটি ‘লয়টারিং মিউনিশন’, যা কামিকাজে বা আত্মঘাতী ড্রোন হিসেবেও পরিচিত।
এ ধরনের অস্ত্র বিস্ফোরক বহন করে দীর্ঘ সময় আকাশে চক্কর দেয়। অনবোর্ড ক্যামেরা ও সেন্সর দিয়ে ভূমি স্ক্যান করে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে।
লক্ষ্যবস্তু নিশ্চিত হলে সেটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং আঘাতের সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরিত হয়। অর্থাৎ অস্ত্রটি নিজেও ধ্বংস হয়ে যায়।
জেট ইঞ্জিনই মূল পার্থক্য
প্রচলিত লয়টারিং মিউনিশনগুলো সাধারণত প্রপেলার বা বৈদ্যুতিক মোটরে চলে। দিব্যাস্ত্র এমকে-৩ ব্যবহার করছে জেট ইঞ্জিন।
ইঞ্জিনটি তৈরি করেছে ভারতীয় স্টার্টআপ ডিজি প্রপালশন। পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে এটি নির্ধারিত সব প্যারামিটার পূরণ করেছে বলে জানানো হয়েছে।
জেট প্রপালশনের কারণে গতি ও পাল্লা বাড়ে। দূরবর্তী বা সময়-সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তুতে দ্রুত পৌঁছানো যায় এবং প্রতিপক্ষ সতর্ক হওয়ার সময় কম পায়।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ছোট জেট ইঞ্জিন বৈদ্যুতিক মোটর বা পিস্টন ইঞ্জিনের তুলনায় দ্রুত জ্বালানি খরচ করে। ফলে গতি, স্থায়িত্ব, পেলোড ও উৎপাদন ব্যয়ের ভারসাম্যই শেষ পর্যন্ত অস্ত্রটির কার্যকারিতা নির্ধারণ করবে।
কোম্পানির দাবি
হোভারইটের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রকল্প শুরু থেকে প্রথম উড্ডয়ন পর্যন্ত সময় লেগেছে এক ক্যালেন্ডার বছরেরও কম। কোনো কোনো প্রতিবেদনে এই সময়কাল আট মাসের কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে কোনো আমদানি করা জেট ইঞ্জিন বা বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ সাবসিস্টেম ব্যবহার করা হয়নি। এয়ারফ্রেম, গাইডেন্স, ফ্লাইট কন্ট্রোল সফটওয়্যার ও ইঞ্জিন — সবই দেশে তৈরি।
সহ-প্রতিষ্ঠাতারা বলেছেন, এটি নিছক একটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন নয়, বরং একটি অভিপ্রায়ের ঘোষণা। তবে দেশীয় উপাদানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়নি বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সময়ে ডিআরডিওর পরীক্ষা
প্রায় একই সময়ে ডিআরডিও অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুলের একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে ইউএভি-উৎক্ষেপিত নির্ভুল গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ইউএলপিজিএম-ভি৩-এর পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে।
এয়ার-টু-গ্রাউন্ড মোডে ট্যাংকবিধ্বংসী এবং এয়ার-টু-এয়ার মোডে ড্রোন ও হেলিকপ্টার লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে এটি পরীক্ষা করা হয়।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দুটি অর্জনকেই স্বাগত জানিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরও কিছু যাচাইমূলক পরীক্ষার পর দিব্যাস্ত্র এমকে-৩ বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
তথ্যসূত্র: কাওয়া ইউএভি প্রাইভেট লিমিটেড, এএনআই, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম