আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সমুদ্রতীরে বিশ্রামরত একটি সি লায়নকে লাথি মারার ঘটনায় দোষ স্বীকার করেছেন ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার সান দিয়েগোর ফেডারেল আদালতে দোষ স্বীকার করেন লা হোয়ার বাসিন্দা টাইলার মুয়েল। সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল।
মার্কিন অ্যাটর্নি কার্যালয় জানিয়েছে, অপরাধটি ফেডারেল পর্যায়ের হওয়ায় মামলাটি ফেডারেল আদালতেই পরিচালিত হয়।
যা ঘটেছিল
আদালতে দাখিল করা সমঝোতা নথি অনুযায়ী, গত ২২ জুলাই গভীর রাতে লা হোয়া কোভ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। সমুদ্রতীরের দেয়ালে তখন শান্তভাবে বসে ছিল প্রাণীটি।

প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, মুয়েল দুই হাত উঁচু করে এমনভাবে এগিয়ে যান যেন তিনি প্রাণীটির সঙ্গে লড়াই করতে যাচ্ছেন। এগোনোর সময় তিনি নিজেকে ইউএফসি যোদ্ধা ম্যাক্স হলোওয়ে বলে উল্লেখ করেন।
মুয়েল স্বীকার করেছেন, তিনি চারবার সি লায়নটিকে লাথি মারেন এবং প্রতিবারই প্রাণীটির গায়ে আঘাত লাগে। এর মধ্যে দুবার মুখে আঘাত করায় প্রাণীটি চমকে পিছিয়ে যায়।
দ্বিতীয় লাথির পর প্রাণীটি পালানোর চেষ্টা করে। তখন তিনি সেটিকে ধাওয়া করেন এবং আবার আঘাত করেন। সি লায়নটি দেয়াল পেরিয়ে সৈকতে নামতে পারলে ধাওয়া থামে।
সমঝোতার অংশ হিসেবে মুয়েল স্বীকার করেছেন, ঘটনার ভিডিওটি সেদিনের প্রকৃত চিত্রেরই সঠিক ধারণ।
ভিডিও থেকে তদন্ত
ঘটনার ভিডিওটি প্রথমে স্ন্যাপচ্যাটে, পরে ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর অনলাইনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং কেউ কেউ নিজেরাই অভিযুক্তকে শনাক্তের চেষ্টা চালান।
বিষয়টি জাতীয় সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডল প্রশাসনের (নোয়া) নজরে এলে সংস্থাটি ফেডারেল তদন্ত শুরু করে। তবে কীভাবে মুয়েলকে শনাক্ত করা হয়, তা স্পষ্ট নয়।
নোয়ার মৎস্য বিভাগের আইন প্রয়োগ শাখার পশ্চিম উপকূল অঞ্চলের সহকারী পরিচালক এরিক মরগান বলেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীকে আঘাত করা বা লাথি মারা শুধু বেআইনিই নয়, প্রাণীটির জন্য বিপজ্জনকও।
মার্কিন অ্যাটর্নি অ্যাডাম গর্ডন সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে বলেন, এটি ফেডারেল অপরাধ এবং এর পরিণতিও ফেডারেল।
সম্ভাব্য শাস্তি
সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী সুরক্ষা আইনে এই অপরাধ একটি লঘু অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। এতে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে।
তবে সমঝোতার মাধ্যমে দোষ স্বীকার করায় শাস্তি তুলনামূলক কম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী ২০ অক্টোবর তাঁর সাজা ঘোষণার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, এই আইনে ‘গ্রহণ’ বলতে কেবল শিকার নয়, বরং ধাওয়া করা, উত্ত্যক্ত করা বা বিরক্ত করাকেও বোঝানো হয় — যদি তাতে প্রাণীর আঘাত পাওয়ার বা স্বাভাবিক আচরণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
ঘটনার সময় সান দিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়া এটিকে পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতার ঘৃণ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
সিয়েরা ক্লাব সিল সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক মেরি বোন বলেছেন, এমন পদক্ষেপ অনেক আগেই দরকার ছিল। তিনি ও অন্য স্বেচ্ছাসেবকরা পর্যটকদের সচেতন করেন এবং সি লায়ন ও তাদের শাবক থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ জানান।
তবে এই সতর্কবার্তা প্রায়ই উপেক্ষিত হয় বলে তিনি জানিয়েছেন।
আইন প্রয়োগে জনবল সংকটের চিত্রও উঠে এসেছে। নোয়া জানিয়েছে, পুরো ক্যালিফোর্নিয়ার জন্য তাদের মাত্র চারজন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা রয়েছে। ফলে স্থানীয় পার্ক রেঞ্জার ও মৎস্য ও বন্যপ্রাণী বিভাগের সঙ্গে অংশীদারত্বের ওপর নির্ভর করতে হয়।
তথ্যসূত্র: মার্কিন অ্যাটর্নি কার্যালয়, বিচার বিভাগের বিবৃতি, নোয়া