আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল


ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে মার্কিন দৈনিক দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।


পত্রিকাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ট্রাম্প হেগসেথের কাছে জানতে চান, ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের চরম ঘাটতির বিষয়টি কেন তাঁর কাছ থেকে আড়াল করা হলো। ঘটনার সঙ্গে পরিচিত দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়।


সূত্রগুলো বলছে, গত শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের ফাঁকে ওই উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। ট্রাম্প ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, তিনি ধরে নিয়েছিলেন গোলাবারুদ-সংক্রান্ত সমস্যাটির সমাধান হয়ে গেছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়, দায় এড়াতে হেগসেথ তখন দোষ চাপান নিজের ডেপুটি স্টিফেন ফাইনবার্গের ওপর। তাঁর অভিযোগ ছিল, ঘাটতির পুরো চিত্র প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছে দিতে ফাইনবার্গ ব্যর্থ হয়েছেন।


সংকটের মাত্রা বোঝাতে যেসব হিসাব সামনে এসেছে, তা রীতিমতো বিস্ময়কর। যুদ্ধের প্রথম মাসেই যুক্তরাষ্ট্র ৮৫০টিরও বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং এক হাজারের বেশি প্যাট্রিয়ট ও থাড ইন্টারসেপ্টর ছুড়েছে।একই সময়ে ছোড়া হয়েছে ১৩০০-র বেশি এটিএসিএমএস কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র – যেগুলো ইউক্রেনকেও সরবরাহ করা হয়ে থাকে।


এক কর্মকর্তার ভাষ্য, মজুদ এমন পর্যায়ে নেমেছে যে হাতে প্রায় কিছুই অবশিষ্ট নেই।


সূত্রের বরাতে জানা যায়, মূলত দূরপাল্লার নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টরের এই ঘাটতির কারণেই গত এক সপ্তাহে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা কিছুটা কমিয়ে এনেছেন ট্রাম্প।


এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, ওই বাগ্‌বিতণ্ডার পর ডেপুটি প্রতিরক্ষামন্ত্রী জরুরি ভিত্তিতে শীর্ষ সামরিক ও ক্রয়-সংক্রান্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন, যেখানে দ্রুত অস্ত্র ঘাটতি পূরণের উপায় খোঁজা হয়।


উল্লেখ্য, ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর পক্ষে প্রশাসনের ভেতরে সবচেয়ে সরব কণ্ঠগুলোর একটি ছিল হেগসেথের। প্রেসিডেন্টের সামনে তিনি অভিযানটিকে তুলনামূলক দ্রুত ও সহজ বিজয়ের সুযোগ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


তবে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন উভয়ই প্রতিবেদনটি জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট একে শতভাগ ভুয়া খবর আখ্যা দিয়ে বলেন, এমন কিছু কখনোই ঘটেনি এবং হেগসেথের ওপর প্রেসিডেন্টের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।


পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল দাবি করেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী গোলাবারুদ পরিস্থিতি নিয়ে কাউকে বিভ্রান্ত করেননি, ডেপুটি ফাইনবার্গের ওপরও দোষ চাপাননি। মজুদ শূন্য হয়ে আসা কিংবা অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ-সংক্রান্ত দাবিগুলোকে তিনি কাল্পনিক বলে উড়িয়ে দেন।


অন্যদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার এটিএসিএমএস ও পিআরএসএম ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় পুরো মজুদই ব্যয় করে ফেলেছে।


তথ্যসূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, এনবিসি নিউজ, রয়টার্স, দ্য টাইমস অব ইসরায়েল