স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬'।
দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায় অংশ নেন ইস্তাম্বুলে বসবাসরত বাংলাদেশি পেশাজীবীরা। উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কমিউনিটির সদস্য, কনস্যুলেট জেনারেলের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাণী পাঠ করেন কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা।
বাণী পাঠ শেষে দিবসটিকে ঘিরে নির্মিত একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা।


'গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে চিরস্মরণীয়'
আলোচনা সভার মূল বক্তব্য দেন কনসাল জেনারেল মুহাম্মাদ মীযানুর রহমান। শুরুতেই তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
কনসাল জেনারেল বলেন, গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের সংগ্রামে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্মের অবদান ও আত্মত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। বিশেষভাবে উল্লেখ করেন প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকার কথা।
শহীদদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন কনসাল জেনারেল।
কমিউনিটির স্মৃতিচারণ
উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে কথা বলেন। বক্তারা অভ্যুত্থানে নিজেদের সক্রিয় অংশগ্রহণসহ সেই সময়ের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন।
গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে জাতীয় ঐক্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস এবং শহীদদের আত্মত্যাগের বার্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যথাযথভাবে তুলে ধরতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।