আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল নেভানোর সময় আকাশে দুটি অগ্নিনির্বাপণ হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে দুই ক্রু নিহত হয়েছেন। রোববার আত্তিকা অঞ্চলের পসাথা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
গ্রিসের দমকল বাহিনী জানিয়েছে, একটি হেলিকপ্টারে থাকা এক গ্রিক সমন্বয়ক ও এক ডেনিশ পাইলট প্রাণ হারিয়েছেন। দ্বিতীয় হেলিকপ্টারের দুই আরোহী - একজন গ্রিক ও একজন ব্রিটিশ নাগরিক - জীবিত উদ্ধার হয়েছেন। দমকল বাহিনীর যোগাযোগ পরিচালক ভাসিলিস ভাথ্রাকোইয়ানিস টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে জানান, অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর দুই পাইলটকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি হেলিকপ্টার উপরে উঠতে গিয়ে অপরটির উড্ডয়নপথে চলে আসে এবং দুটি আকাশযান পরস্পরকে আঘাত করে। সংঘর্ষের পর নিচের হেলিকপ্টারটি আগুনের গোলা হয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে। অন্যটির পানি বহনের বাকেট বা ট্যাংক অংশে দৃশ্যত ক্ষতি হলেও সেটি আকাশে টিকে থেকে উড়তে সক্ষম হয়।
তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। গ্রিক রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইআরটির ফুটেজেও রোটর সংঘর্ষের পর একটি হেলিকপ্টার বিস্ফোরিত হয়ে নিচে পড়ে যাওয়ার দৃশ্য উঠে এসেছে। দুটি হেলিকপ্টারই ছিল বেল মডেলের, যেগুলো অস্ট্রেলিয়ার আকাশপথে অগ্নিনির্বাপণ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাকডারমট এভিয়েশন থেকে লিজ নিয়েছিল গ্রিসের দমকল বিভাগ। দুর্ঘটনার আগে সেগুলো এলেফসিনা সামরিক বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছিল।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট জন ম্যাকডারমট সোমবার এক বিবৃতিতে জানান, তাঁরা গভীরভাবে শোকাহত এবং একটি হেলিকপ্টারের দুই ক্রুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করছেন। তিনি বলেন, নিহতদের পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন তাঁরা। দুই ক্রুই জনপদ রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত ছিলেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে তদন্তে সহায়তা করছে। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থাটি গত সাত বছর ধরে গ্রিসে সেবা দিয়ে আসছে বলে তাদের ভাষ্য।
দুর্ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিত নয়, তদন্ত চলছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ইআরটি জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই এলাকার সব বেল হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন স্থগিত রেখেছে দমকল বাহিনী।
প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিস সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করে বলেন, পোর্তো জারমেনোর বড় আগুন নেভানোর চেষ্টার সময় গ্রিক সমন্বয়ক ও ডেনিশ পাইলটকে হারানো গোটা দেশকে শোকাহত করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঝোড়ো বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতে হাতে থাকা কয়েক ডজন আকাশযান দিয়েও নিরাপদে অভিযান চালানো সম্ভব হয় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।