অর্থনীতি ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
জুলাই মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ২৮৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। তবে সার্বিক অঙ্ক টানা দ্বিতীয় মাসের মতো ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচেই রয়ে গেছে।
রোববার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। জুন মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৮১ কোটি ডলার।
এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত টানা ছয় মাস প্রবাসী আয় ৩ বিলিয়ন ডলারের ওপরে ছিল। সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কারণ আমদানি দায় মেটাতে দেশে ডলারের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। একই সময়ে রপ্তানি আয়ে ভাটা, উচ্চ আমদানি ব্যয় ও বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ অর্থনীতিতে বাড়তি বোঝা যোগ করছে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রবাসী আয়ই বহির্খাতের দায় মেটানোর প্রধান ভরসা হিসেবে কাজ করে থাকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, জুলাই-মে সময়ে আমদানি ব্যয় ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ বিলিয়ন ডলারে।
জ্বালানি ও সারের দাম বৃদ্ধিই এ ব্যয় বাড়ার মূল কারণ। বিপরীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ২ শতাংশ কমে নেমেছে ৪০ বিলিয়ন ডলারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. দীন ইসলাম মনে করেন, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের চলমান অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি বাড়তি উদ্বেগের।
তাঁর ভাষ্য, রিজার্ভ শক্তিশালী করা, বিনিময় হারের চাপ কমানো এবং চলতি হিসাবের ঘাটতি পূরণে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অপরিহার্য।
তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রবাসী আয় কমতে থাকলে টাকার মান রক্ষার সুরক্ষাবলয় দুর্বল হয়ে পড়বে। এতে আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়বে এবং মুদ্রানীতি পরিচালনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্ষমতাও সংকুচিত হবে।
তবে সামগ্রিক চিত্র পুরোপুরি হতাশাজনক নয়। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স ১৭ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা সামষ্টিক অর্থনীতিকে বড় ধরনের সহায়তা দিয়েছে।
দেশের শীর্ষ রেমিট্যান্স সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন জানান, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ এখন ভিসা ইস্যুতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে, যা প্রবাহ কমার একটি কারণ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ঈদুল ফিতরকে ঘিরে মে মাসে প্রবাসীরা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি অর্থ পাঠিয়েছিলেন। সেই তুলনায় জুলাইয়ের প্রবাহকে হতাশাজনক বলা যাবে না।
একটি বেসরকারি ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি আতিথেয়তা খাতে কর্মরত। অঞ্চলটিতে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পর্যটক আগমন ও তাঁদের আয় দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তাঁর মতে, জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় সেখানে জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে। এসব কারণেই প্রবাসী আয়ের গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে থাকতে পারে।